যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, হাইলাকান্দি ২৭ এপ্রিল: শিক্ষার নামে বাণিজ্যিক লুটতরাজ এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠলো হাইলাকান্দিতে। জেলার অবৈধ বেসরকারি স্কুলগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা এবং এই দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত ১১টি সরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে আজ হাইলাকান্দির অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (শিক্ষা) অন্তরা সেনের নিকট এক স্মারকপত্র প্রদান করে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি ও ছাত্র মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। স্মারকপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষক মুক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন লস্কর, ছাবির আহমদ বড়ভুঁইয়া, আমির হোসেন মজুমদার এবং ছাত্র মুক্তির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বড়ভুঁইয়া ও মুস্তাফিজুর রহমান লস্কর।
কৃষক মুক্তির নেতা ফরিদ উদ্দিন লস্কর সহ অন্যরা অভিযোগ করেন যে, হাইলাকান্দি জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক গভীর ষড়যন্ত্র ও অশুভ আঁতাত চলছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইউ-ডাইস, সেবা কোড এবং হায়ার সেকেন্ডারি কাউন্সিল কোড ছাড়াই অন্তত ৩৫টি বেসরকারি স্কুল কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই অবৈধ স্কুলগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দিতে জেলার ১১টি সরকারি স্কুল তাদের নিজস্ব কোড ব্যবহার করতে দিয়ে ‘ট্যাগিং’ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিড-ডে মিল, সরকারি সাইকেল এবং ‘নিযুত মইনা’র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির রহস্য উদ্ঘাটন করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্তের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।



কৃষক মুক্তির নেতা ফরিদ উদ্দিন লস্কর সহ অন্যরা স্পষ্ট জানান যে, জেলা স্কুল পরিদর্শক কার্যালয়ের কিছু অসাধু চক্রের মদতেই এই অবৈধ কারবার দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছে। এর আগে দফায় দফায় স্মারকলিপি দেওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো নির্দেশিকার নামে কেবল কালক্ষেপণ করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে অবৈধ স্কুলগুলো এখনো ভর্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, শিক্ষার নামে এই নোংরা দুর্নীতি আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একদিকে বেসরকারি স্কুলগুলো সাধারণ অভিভাবকদের পকেট কাটছে, অন্যদিকে সরকারি স্কুলের নাম ভাঙিয়ে সরকারি অনুদান লুট করা হচ্ছে। অবিলম্বে দোষী স্কুল ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে জেলাজুড়ে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষক মুক্তির নেতা ফরিদ উদ্দিন লস্কর।
মোট কথা হাইলাকান্দি জেলা এবার শিক্ষা ব্যবস্থার নামে দুর্নীতির শিরোনাম আদায় করেছে, এব্যাপারে শুধু তদন্ত নয় অবৈধ শিক্ষা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠন ছাড়াও সচেতন নাগরিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা।
