হাইলাকান্দিতে অনুমোদনবিহীন স্কুলে ছাত্র নিবন্ধন বন্ধের কড়া নির্দেশ প্রশাসনের, আইন লঙ্ঘনে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা:

যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, হাইলাকান্দি ২৩ এপ্রিল: সমগ্র হাইলাকান্দি জেলা জুড়ে অনুমোদনবিহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল শিক্ষা দফতর। জেলার স্কুল পরিদর্শক তাপস দত্ত আজ, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক লিখিত নির্দেশ জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানায়ি দেয়।

জারি করা নির্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ASSEB ডিভিশন-I ও II কোডবিহীন বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সরকারি বা প্রাদেশিকীকৃত স্কুলে “ট্যাগিং” বা নিবন্ধন করানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নির্দেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু সরকারি ও স্বীকৃত ভেঞ্চার স্কুল অননুমোদিত প্রাইভেট স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে নিবন্ধন করাচ্ছে, যা অসম নন-গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশন রেগুলেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬-এর পরিপন্থী। এই ধরনের কার্যকলাপ স্কুল পরিচালনার নিয়মাবলীর গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
শিক্ষা দফতরের মতে, এই ধরনের অনিয়মের ফলে ভর্তি, পরীক্ষা, সরকারি অনুদানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় জেলার সমস্ত সরকারি, প্রাদেশিকীকৃত ও স্বীকৃত ভেঞ্চার হাইস্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক ও সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ASSEB কোডবিহীন কোনো বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিবন্ধনের জন্য কোনোভাবেই ট্যাগিং করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মহলের মতে, এই নির্দেশের মাধ্যমে জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে, অননুমোদিত “ইংলিশ মিডিয়াম” স্কুলগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। ছাত্র মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা ফরিদ উদ্দিন লস্করের হাইলাকান্দি শিক্ষা বিভাগের এই পদক্ষেপ কে স্বাগত জানিয়েছেন। ছাত্র মুক্তি এবিষয়ে আগে থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এবার প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আরো ও কঠোরতম হতে সকল ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। তবে লক্ষণীয় হবে জেলা শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশের বাস্তবায়ন কতটুকু নিশ্চিত হয় নাকি কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে এখানেই থমকে যায় নির্দেশটি,তা হবে দেখার বিষয়।