রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ২২ ফেব্রুয়ারি :- ত্রিপুরায় উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই গোমতী জেলার শিলাছড়ি এলাকায় ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা। অভিযোগ, ঠিকেদারি কাজের বকেয়া অর্থকে কেন্দ্র করে Oil and Natural Gas Corporation (ওএনজিসি)-র একটি ড্রিলিং সেন্টারের দুই কর্মীকে অপহরণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাছড়ি এলাকায় অবস্থিত ওএনজিসি-র ড্রিলিং সেন্টারে কর্তব্যরত মুখ্য বাস্তুকার বি. সি. জোশী এবং ক্রু মেম্বার অমিত কুমারকে শনিবার রাত আনুমানিক ৪টা থেকে ৯টার মধ্যে জোলাইবাড়ি এলাকার একদল নব্য ঠিকেদার দুটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকেদার গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে কাজের আগাম অর্থ বা বকেয়া পাওনা নিয়ে অসন্তোষে ছিল। সেই আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ওএনজিসি বা প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত বিবৃতি মেলেনি, তবে স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি – ঘটনাটির পেছনে প্রভাবশালী মহলের মদত থাকতে পারে।ঘটনার পরপরই শাসকদল, প্রশাসন, স্থানীয় ঠিকেদার সংগঠন এবং পুলিশের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর অপহৃত দুই কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে – এত বড় ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো না কেন?
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অভিযুক্তরা শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবির মধ্যেই যদি ঠিকেদারি বকেয়া, অপহরণ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে – তবে তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার, এই ঘটনায় প্রকৃত তদন্ত হয় কিনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কিনা।
Oil and Natural Gas Corporation-এর কর্মী অপহরণে চাঞ্চল্য, গোমতীর শিলাছড়িতে তীব্র রাজনৈতিক তরজা
