রাজনগরে পাগল কুকুরের কামড়ে গরু-ছাগলের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার

রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ২০ ফেব্রুয়ারি :- উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার আনন্দবাজার এলাকার রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলোনি ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে পাগল কুকুরের কামড়ে গরু-ছাগলের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ জনক আকার ধারণ করেছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই ঘটনায় প্রথমদিকে ৬টি গরুর মৃত্যু হলেও, গত বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮-এ। আক্রান্ত রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি গরু ও ছাগল। এলাকার অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে দুর্বল। ফলে একের পর এক গবাদিপশুর মৃত্যুতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর ৮ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই টিকাকরণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। প্রথম দিন কিছু পশুকে টিকা দেওয়ার পর বাকি ভ্যাকসিন পশুমালিকদের হাতে দিয়ে ‘নিজেরা করে নেওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে আসা কর্মীকে প্রতিটি পরিবারকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।৬ ফেব্রুয়ারি যুবরাজনগর বিধানসভা কেন্দ্র-এর বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ বিষয়টি জানতে পেরে মহকুমা শাসকের কাছে লিখিতভাবে জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় টিকাকরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর দাবি, বাস্তবে তার সুফল মেলেনি।আতঙ্কে অনেকেই অসুস্থ গরুগুলো বাড়িতে রাখতে সাহস পাচ্ছেন না। সংক্রমণের ভয়ে সেগুলো দূরের রাবার বাগানে বেঁধে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ আক্রান্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, “যারা গোমাতা বলে গরুকে সম্বোধন করেন, তারা এখন কোথায়? গরুগুলো না খেয়ে রাবার বাগানে দিন কাটাচ্ছে।” ঘটনাস্থল থেকেই তিনি এসডিএমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এলাকার বাসিন্দা গজেন্দ্র চন্দ্র নাথ জানান, তাঁর আরও তিনটি গরু আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। সংক্রমণের ভয়ে তিনি অসুস্থ গরুর কাছে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার একই সমস্যায় ভুগছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। এখন প্রশাসনের দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রাজনগর কলোনির।