রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১৬ ফেব্রুয়ারি :- উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর এলাকায় ফুলচাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন স্থানীয় রাজেশ দাস ও রত্নদীপ দাস। সম্প্রতি তাঁদের ফুলচাষের প্লট পরিদর্শন করেন উত্তর ত্রিপুরার ডিডিএম। পরিদর্শনকালে ফুল ও পত্রলতার সুসংগঠিত চাষাবাদ, উন্নত মানের উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।বিশেষ করে রাজেশ দাসের সাফল্য বর্তমানে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিবেদিত প্রচেষ্টা ও আধুনিক পদ্ধতিতে ফুলচাষের মাধ্যমে তিনি বছরে আনুমানিক ১৫–১৬ লক্ষ টাকা আয় করছেন। তাঁর উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সজ্জা পত্রলতা নিয়মিতভাবে আগরতলা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামের বিভিন্ন বাজারে বিপণন করা হয়। ফলে স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য বাজারেও তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। রত্নদীপ দাসও একইভাবে ফুলচাষে মনোনিবেশ করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁদের চাষাবাদে রয়েছে মৌসুমি ও বহুবর্ষজীবী নানা প্রজাতির ফুল, যা স্থানীয় অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও সজ্জার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উন্নত চারা, সেচব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদনের মান বজায় রাখা হচ্ছে।ডিডিএম জানান, উত্তর ত্রিপুরায় উদ্যানপালনভিত্তিক জীবিকার সম্ভাবনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে আরও অনেক যুবক-যুবতী এই ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন। তিনি কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তার আশ্বাস দেন। এই সাফল্য প্রমাণ করছে যে, সঠিক উদ্যোগ ও অধ্যবসায় থাকলে ফুলচাষের মতো উদ্যানভিত্তিক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পানিসাগরের এই দুই চাষির অর্জন উত্তর ত্রিপুরা জেলায় কৃষিভিত্তিক আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ডিডিএমের পরিদর্শনে উৎসাহ, ফুলচাষে বছরে লক্ষাধিক আয়
