যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ১৩ ফেব্রুয়ারি :- রাত পোহালেই ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তার আগে জোরকদমে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে সব রাজনৈতিক দল। প্রচার, কর্মীসভা ও ঘরোয়া বৈঠক – সব মিলিয়ে শহরজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। পাশাপাশি শুরু হয়েছে দলবদলের পালা, যা নির্বাচনী অঙ্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।ধর্মনগরের রাজনীতিতে প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। টানা চারবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় শক্ত সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর শাসক দলের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিশ্ববন্ধু সেনের অনুপস্থিতিতে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখা সহজ কাজ নয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার আলগাপুরের প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা গত নির্বাচনে নির্দলীয় প্রার্থী সৌরভ গোস্বামী পুনরায় বিজেপি দলে যোগদান করেন। ধর্মনগর মণ্ডল সভাপতি শ্যামল নাথ তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে দলে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্মনগর মণ্ডলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সৌরভ গোস্বামী প্রথমে কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দল ছেড়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার উপনির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপনির্বাচনের আগে এই যোগদান শাসক দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে আলগাপুর ও সংলগ্ন এলাকায় সৌরভ গোস্বামীর ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সমর্থক গোষ্ঠী নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে ধর্মনগরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে ঘন ঘন দলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নও উঠছে। ২০২৩ সালে কংগ্রেসে যোগদান, পরে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং এবার পুনরায় বিজেপিতে ফেরা – এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ভোটারদের একাংশকে দ্বিধায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ফলে প্রার্থী নির্বাচনে দলীয় নেতৃত্বকে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, জনমত এবং সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া – সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধর্মনগরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে কৌতূহল ও সংশয় দুই-ই দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, শুধুমাত্র দলবদল নয়, বরং শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা – সেটিই নির্ধারণ করবে নির্বাচনী লড়াইয়ের মূল রূপরেখা। সব মিলিয়ে বলা যায়, সৌরভ গোস্বামীর বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেও প্রার্থী নির্বাচন সম্পূর্ণ সহজ হয়ে যাবে – এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে ধর্মনগরের রাজনৈতিক মহল এবং জনসাধারণ।
দলবদলের অঙ্কে নতুন সমীকরণ, ধোঁয়াশায় প্রার্থী নির্বাচন
