যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, 2 ফেব্রুয়ারি :- কাজের নামগন্ধ নেই, অথচ সরকারি খাতায়-কলমে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ – এমনই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল উত্তর ত্রিপুরার যুবরাজনগর বিধানসভা এলাকার রাধাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে। রেগা (MGNREGA) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের নামে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু রাধাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভূমিহীন কলোনি এলাকা। পঞ্চায়েত নথি অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে মনোরঞ্জন নাথের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় মাটি কাটার কাজের জন্য মোট ৫৩৮ টি শ্রমদিবস দেখিয়ে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩১৮ টাকা বরাদ্দ ও খরচ করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাস্তবে সেই রাস্তায় আজও এক কোদাল মাটি কাটার চিহ্ন পর্যন্ত নেই।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দেড় দশক ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির কোনো সংস্কার হয়নি। বর্ষা এলেই হাঁটুসমান কাদা জমে যায়, অঙ্গনওয়াড়িতে যাতায়াত করা শিশু ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ সেই বেহাল রাস্তার পাশেই টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি ‘কাজ সম্পন্ন’ সাইনবোর্ড। বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে – চলতি অর্থবর্ষের জুলাই মাসেই নাকি কাজ শেষ হয়েছে! এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সরাসরি অভিযোগ, শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের মদত ছাড়া এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের নামে ভুয়ো মাষ্টাররোল তৈরি করে শ্রমদিবস দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের প্রশ্নে সম্পূর্ণ উদাসীন হলেও টাকা লুটের বেলায় দারুণ তৎপর। বারবার জানানো সত্ত্বেও রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। উল্টে, সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কাজ শেষ দেখিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।এই ‘হরিলুট’ – এর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গ্রামবাসীরা অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রকৃতপক্ষে রাস্তার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদৌ এই গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনবে কি না, নাকি সবকিছু আবারও ফাইলবন্দি হয়েই থেকে যাবে।
কাজ না করেই লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব! যুবরাজনগরের রাধাপুরে রেগা প্রকল্পে ‘হরিলুটের’ অভিযোগ
