রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ৩০ জানুয়ারি :- খাওয়াপুইসের প্রাচীন ঐতিহ্য, আদিবাসী সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের সংরক্ষণ এবং প্রসারের লক্ষ্যে উদয়পুর মহকুমার কিল্লা আরডি ব্লকের অন্তর্গত মানিথাং পাড়ায় বুধবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক সেনগ্রাক ফেস্টিভ্যাল – ২০২৬। ত্রিপুরার মলসোম ডোফা, রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং টিটিএডিসি খুমুলং-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে গোটা এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজপরিবারের উত্তরসূরি প্রদ্যুৎ বিক্রম কিশোর মানিক্য দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিটিএডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য পূর্ণ চন্দ্র জমাতিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য কমল কলই, ত্রিপুরা এসটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, টিটিএডিসির এমডিসি শিবসানলিয়ান কাইপেং, বিশিষ্ট সমাজকর্মী মানিন্দ্র মোহন জমাতিয়া, কিল্লা আরডি ব্লকের বিডিও মনোরঞ্জন দেববর্মা সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মলসোম দোফা ত্রিপুরার সভাপতি তথা কমিউনিটি চিফ গারু চরণ মলসোম। বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের রাই, দোফা ও সমাজপ্রধানদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে। উদ্বোধনী ভাষণে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, “সেনগ্রাক উৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক। এই ধরনের উৎসব নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করবে।” তিনি আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণে এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রদ্যুৎ বিক্রম কিশোর মানিক্য দেববর্মা কিল্লা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিধায়ক রামপদ জমাতিয়ার উপস্থিতিতেই তিনি কিল্লা অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ঘাটতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই সেনগ্রাক ফেস্টিভ্যালে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, লোকসংস্কৃতি, নিজস্ব রীতিনীতি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আদিবাসী জীবনধারা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হচ্ছে, যা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।সামগ্রিকভাবে সেনগ্রাক ফেস্টিভ্যাল – ২০২৬ আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা বহন করে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
