উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলা সাহিত্যসভার উদ্যোগে টংলায় জাতীয় যুব দিবস পালন

-সঞ্জয় সাহা- টংলা, ১৫ জানুয়ারি : ওদালগুড়ি জেলার শিক্ষাগত, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক শহর টংলায় ১২ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলা সাহিত্যসভার উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মদিবস “জাতীয় যুব দিবস” হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। টংলাস্থ শহিদ সুজিত নার্জারি মেমোরিয়াল প্রেক্ষাগৃহে এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ১১টায় বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। মাল্যদান করেন গুয়াহাটি রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের স্বামী আত্মব্রতানন্দজি মহারাজ এবং টংলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ভাগবত সাহা। প্রদীপ প্রজ্বালন করেন কবি ও অনুবাদক, আইআইটি গুয়াহাটির অনুশীলন অধ্যাপক তথা মুখ্য অতিথি ড. দিগন্ত বিশ্ব শর্মা, ভক্ত রঞ্জন সাহা (প্রাক্তন রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার), কল্পনা সরকার (প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, টংলা পৌরসভা)। পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন ঘটেশ্বর বরুয়া (সভাপতি, টংলা সাহিত্যসভা ও প্রাক্তন অধ্যাপক, টংলা কলেজ), টুম্পা পাল (ওয়ার্ড কমিশনার, ১নং ওয়ার্ড, টংলা পৌরসভা) সহ উপস্থিত ভক্তবৃন্দ।
সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে অসমের হৃদয়ের স্পন্দন, প্রয়াত শিল্পী জুবিন গার্গের প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। মাল্যদান করেন খর্গেশ্বর বরা (সভাপতি, টংলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন), প্রদীপ প্রজ্বালন করেন গৌতম দাস (সম্পাদক, টংলা নামঘর সত্র) এবং পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন উপস্থিত সদস্যবৃন্দ।
সকাল সাড়ে ১১টায় সভাপতির আসন গ্রহণ করেন টংলা কলেজের অধ্যাপক স্বপন আচার্য। সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলা সাহিত্যসভার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে অতিথিবরণ ও সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়। সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন বিজয়া দে, পিয়ালী মহুরি, কাকলি দে, প্রতিভা বসু, সংযুক্তা ঘোষ, বাসন্তী ভট্টাচার্য চক্রবর্তী, পম্পী সাহা ও শিপ্রা নন্দী।
দুপুর ১২টায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অতিথি ঘটেশ্বর বরুয়া (প্রাক্তন অধ্যাপক, টংলা কলেজ ও সভাপতি, টংলা সাহিত্যসভা)। তিনি বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ ক্রমশ হ্রাস পাওয়াকে সমাজের জন্য একটি গুরুতর চিন্তার বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
এরপর সমবেত সংগীতের মাধ্যমে অসমের হৃদয়ের স্পন্দন জুবিন গার্গের স্মৃতিতে তাঁর স্বরচিত গান “মায়াবিনী” পরিবেশন করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়মা দৈমারী, জুমি শর্মা, স্বর্ণলতা শইকীয়া, দীপ্তিমণি শর্মা, দীপ্তিমা ভরালী ও সংযুক্তা ঘোষ।
পরবর্তী পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন অর্জুন দৈমারী (এম.সি.এল.এ, বিটিসি ও অধ্যক্ষ, টংলা পৌরসভা)। এরপর মুখ্য অতিথি ড. দিগন্ত বিশ্ব শর্মা স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং রামকৃষ্ণ পরমহংসের সান্নিধ্য লাভের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
এরপর পিয়ালী মহুরির তত্ত্বাবধানে কচি-কাঁচা ছাত্রছাত্রীদের সমবেত সংগীত পরিবেশিত হয়। অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা হল অর্পিতা সাহা, কোয়েল মালাকার, প্রমিলা দে, অর্পিতা কর ও জ্যোতি ভাওয়াল।
পরে সম্মানীয় অতিথি স্বামী আত্মব্রতানন্দজি মহারাজ বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। আচার্য তনয় রায়ের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর ভারতবিখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে’র একটি শ্যামা সংগীত পরিবেশন করেন রাজু পাল (সাধারণ সম্পাদক, গোসাইগাঁও জেলা কমিটি)। তবলায় সঙ্গ দেন চন্দন সরকার (সাংস্কৃতিক সম্পাদক, গোসাইগাঁও জেলা কমিটি, উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলা সাহিত্যসভা)।
ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন মুখ্য আহ্বায়ক নিতাই সাহা (অধ্যাপক, ন্যাশনাল পাইওনিয়ার সিনিয়র হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, টংলা ও সদস্য, উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলা সাহিত্যসভা)। সভাপতির সমাপনী ভাষণের মাধ্যমে সভাপতি স্বপন আচার্য সভা ভঙ্গ ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. অভিজিৎ চক্রবর্তী (অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, টংলা কলেজ), রিপিকা রাভা (আহ্বায়ক, আকাশ—অসম সাহিত্যসভার একটি শাখা), মন্টু পাঠক (অধ্যাপক, টংলা কলেজ), সান গোস্বামী, শ্যামল সরকার, (প্রাক্তন সভাপতি বর্তমান মুখ্য উপদেষ্টা সারা বি.টি.আর বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশন ও মিডিয়া প্যানালিষ্ট অসম রাজ্যিক কমিটি), বরুণ দাস, (প্রাক্তন সভাপতি,টংলা রামকৃষ্ণ সেবা সমিতি),সারা বি.টি.চি বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের টংলা আঞ্চলিক কমিটি থেকে চিত্ত মজুমদার, কেশব সাহা,সিদ্ধার্থ সরকার,সঞ্জয় সাহা প্রমুখ।