ভারত বৈচিত্র্যকে গণতন্ত্রের শক্তিতে পরিণত করেছে : মোদী

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, রত্নজ্যোতি দত্ত : নুতন দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার বলেন, ভারত তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যকে গণতন্ত্রের দুর্বলতা নয়, বরং তার সর্ববৃহৎ শক্তিতে পরিণত করেছে এবং স্বাধীনতার সময় উত্থাপিত সমস্ত সংশয়কে সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, দেশ প্রমাণ করেছে যে বৈচিত্র্য গণতন্ত্রের পথে বাধা নয়, বরং তাকে আরও সুদৃঢ় করে।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির স্পিকার ও সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তাদের ২৮তম সম্মেলন (CSPOC-2026)-এর উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে এত বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে পারবে কি না।
“ভারত সেই সংশয়গুলিকে সুযোগে রূপান্তরিত করেছে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে,” তিনি বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার প্রাথমিক বছরগুলিতে আরেকটি বড় ধারণা ছিল—গণতন্ত্র যদি কোনওভাবে টিকে যায়ও, ভারত হয়তো উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না।
“আজ ভারত প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াগুলি স্থিতিশীলতা, গতি এবং ব্যাপক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম,” মোদী বলেন।


মোদী বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি। দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) আজ বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। পাশাপাশি ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক, দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক এবং তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের অধিকারী দেশ।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত বর্তমানে তৃতীয় বৃহত্তম বিমান চলাচল বাজার, চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক এবং তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের অধিকারী। একই সঙ্গে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদক এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ।
“ভারতে গণতন্ত্রের অর্থ হলো সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া,” বলেন মোদী। তিনি জানান, সরকার জনকল্যাণের মনোভাব নিয়ে কোনও প্রকার বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি নাগরিকের জন্য কাজ করছে। এই নীতির ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে উঠে এসেছে।
“ভারতে গণতন্ত্র শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, ফলও দেয়,” তিনি বলেন।
প্রধানমন্ত্রী পুরনো সংসদ ভবনের কেন্দ্রীয় কক্ষে এই ভাষণ দেন, যেখানে একসময় সংবিধান সভা ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করেছিল। তিনি তাঁর বক্তব্যকে সম্মেলনের মূল ভাবনা ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকর বাস্তবায়ন’-এর সঙ্গে যুক্ত করেন।
ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ আখ্যা দিয়ে মোদী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য হাজার হাজার বছরের পুরোনো। তিনি বৈদিক সভা, বৌদ্ধ সংঘের আলোচনা-ভিত্তিক প্রথা এবং তামিলনাড়ুর দশম শতাব্দীর গ্রামসভা সংক্রান্ত শিলালিপির উল্লেখ করে বলেন, ভারত যুগ যুগ ধরে সংলাপ ও ঐকমত্যের সংস্কৃতি লালন করে এসেছে।
এই উপলক্ষে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সোশ্যাল মিডিয়া-র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বিড়লা এসব মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো তথ্য, সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক বিভাজনকে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জবাবদিহিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমান সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন।