দশম শ্রেণিতে ৯৭.৪%, জেলার টপার রৌনক! টুয়েলভের প্রি-বোর্ডের কিছু ঘণ্টা আগেই রেললাইনে মিলল নিথর দেহ

সংবাদ সংস্থা, ০২ ডিসেম্বর :- দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পেয়েছিল ৯৭.৪%। যার জন্য মকুব হয়েছিল স্কুল-কোচিং ফি। দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রি-বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই চরম পদক্ষেপ ১৭-র পড়ুয়ার।

রৌনকের বাবা, অলোক পাঠক, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি পুলিসকে জানান যে, তার ছেলে সোমবার সকাল ৬:৩০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কিন্তু ফিরে আসেনি। বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি, তাই তার ছোট বোন মিনি ও বাবা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা পরে, রৌনকের বাইক জুহি রেলওয়ে ইয়ারের কাছে পাওয়া যায়। সেখানে রেললাইনের পাশে রৌনকের মৃতদেহও পাওয়া যায়, জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রৌনকের বিধ্বস্ত বাবা বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি আমার একমাত্র ছেলে এমন চরম পদক্ষেপ নেবে। সে খুব মেধাবী ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে পড়াশোনা না করার জন্য কখনও বকিনি। কখনও তাকে পড়াশোনা করতে বলিনি। সে তার পড়াশোনার প্রতি এতটাই সিরিয়াস ছিল যে আমাকে তাকে কিছু বলার প্রয়োজন হত না।’ অলোক বলেন, তার ছেলে তার কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার কারণে কানপুরে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে ইন্টারমিডিয়েটের প্রাক-বোর্ড পরীক্ষার কারণে রৌনক মানসিক চাপে ছিল। রাতে ঘুমানোর আগে সে অ্যালার্ম সেট করেছিল। সকাল সাড়ে ৬টা বাজতেই সে তার বাইক নিয়ে বেরিয়ে যায়। তারপর স্টেশনে বাইক রেখে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেয়। আরও জানা গিয়েছে, একদিন আগে রৌনক তার খুড়তুতো ভাইকে বলেছিল যে সে ইংরেজি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত নয়।

রেলওয়ে পুলিস (GRP)-এর ইনস্পেক্টর ওম নারায়ণ সিং বলেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘আত্মহত্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করছি এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছি।’