২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশে কার্যকর হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন, ২০২৫। এর মাধ্যমে প্রায় ছয় দশক পুরনো আয়কর আইন, ১৯৬১ বাতিল করে কর ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের মূল লক্ষ্য – কর আইনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত করা, যাতে সাধারণ করদাতা ও ব্যবসায়ীরা ঝামেলা ছাড়াই নিয়ম মেনে কর দিতে পারেন।
কী বদল আসছে নতুন আয়কর আইনে ?
সরকার জানিয়েছে, নতুন আইনের কাঠামো মোটামুটি আগের মতোই থাকবে। তবে আইনের ভাষা ও প্রক্রিয়া হবে অনেক সহজ। এর ফলে কর সংক্রান্ত জটিলতা কমবে, নোটিস ও মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পুরো ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হবে ডিজিটাল ও ফেসলেস প্রক্রিয়ার ওপর।
১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর শূন্য :-
- ২০২৫ সালের বাজেটে ঘোষিত বড় করছাড় ২০২৬ সালেও বজায় থাকছে নতুন কর ব্যবস্থায় –
- বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও আয়কর দিতে হবে না।
- বিভিন্ন ছাড় ও ডিডাকশন থাকছে না।
- তার বদলে করের হার আগের তুলনায় কমানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত করের কাঠামো অনুযায়ী :-
- ৪ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ৫% কর।
- ধাপে ধাপে করের হার বাড়বে।
- ২৪ লক্ষ টাকার বেশি আয়ে সর্বোচ্চ ৩০% কর।
- বেতনভোগীদের জন্য স্বস্তির আশা।
বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য :-
- স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ১ লক্ষ টাকা করার দাবি উঠেছে।
- ধারা ৮০সি-র অধীনে ছাড়ের সীমা ১.৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৩ লক্ষ টাকা করা হতে পারে।
- এই পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়িত হলে সঞ্চয়ে আরও উৎসাহ পাবেন সাধারণ মানুষ।
- সিগারেট ও পানমশলা হবে আরও দামী।
- নতুন আইনে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে –
- সিগারেটের ওপর এক্সাইজ ডিউটি বাড়বে।
- পানমসলার ওপর বসবে নতুন সেস (অতিরিক্ত কর)
এই করগুলি GST-এর পাশাপাশি নেওয়া হবে। সরকারের উদ্দেশ্য রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এই ধরনের পণ্যের ব্যবহার কমানো।
GST-এ বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই
২০২৬ সালে GST হারে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ চালু হওয়া নতুন GST কাঠামোর এটি হবে প্রথম পূর্ণ বছর। এই সংস্কারে প্রায় ৩৭৫টি পণ্য ও পরিষেবার কর কমানো হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫% অথবা ১৮% GST প্রযোজ্য। তবে তামাকজাত পণ্যের ওপর থাকছে সিন ট্যাক্স। কাস্টমস ডিউটি সংস্কারে জোর।
আয়কর ও GST-এর পর সরকারের নজর কাস্টমস ব্যবস্থার দিকে :-
- কাস্টমস ডিউটির স্ল্যাব সংখ্যা কমিয়ে ৮টি করা হয়েছে।
- চালু হবে ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট ও ডিজিটাল কাস্টমস প্রক্রিয়া।
- এর ফলে আমদানি – রপ্তানি আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
সাধারণ করদাতাদের কী লাভ ?
- নতুন আয়কর আইনের ফলে –
- কর আইন হবে সহজবোধ্য।
- নোটিস ও কর সংক্রান্ত ঝামেলা কমবে।
- ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে।
- করদাতাদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা কমবে।
সব মিলিয়ে, নতুন আয়কর আইন ২০২৫ সাধারণ মানুষের জন্য কর ব্যবস্থাকে আরও বন্ধুসুলভ করার দিকেই এক বড় পদক্ষেপ।
