গুরু গম্ভীরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত? টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ নিয়ে ভাবনায় বিসিসিআই, আলোচনায় চেনা মহারথী

সংবাদ সংস্থা, ২৮ ডিসেম্বর :- গত বছরের ৯ জুলাই ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গৌতম গম্ভীরের কোচিং অধ্যায় এখনও পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। এশিয়া কাপ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো সাফল্য এলেও, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স রীতিমতো হতাশাজনক। সেই কারণেই ক্রিকেটমহলে জোর চর্চা – গম্ভীরের সময় কি তাহলে শেষের পথে?

পরিসংখ্যান বলছে, গম্ভীরের কোচিংয়ে প্রথম ১৯টি টেস্টের মধ্যে ভারত হেরেছে ১০টিতে, জিতেছে মাত্র ৭টি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তাঁর আমলেই ভারত ঘরের মাঠে পরপর দু’বার হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়েছে। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হার, তার পর গত নভেম্বরেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে পরাজয়। সর্বশেষ, গত মাসে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বিরল হোয়াইটওয়াশ – যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নাকি অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি লাল বলের দলের কোচিংয়ে আগ্রহী কি না। অতীতে একাধিকবার স্ট্যান্ড-ইন কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো লক্ষ্মণ অবশ্য বর্তমানে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ‘হেড অফ ক্রিকেট’ হিসেবেই স্বচ্ছন্দ। শোনা যাচ্ছে, সিনিয়র টেস্ট দলের স্থায়ী কোচ হওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী নন।

উল্লেখ্য, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে গম্ভীরের চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে বোর্ডের অন্দরমহলে আলোচনা চলছে – ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের বাকি ৯টি টেস্টে লাল বলের দলের দায়িত্বে গম্ভীরই কি সঠিক ব্যক্তি? পাঁচ সপ্তাহ পর শুরু হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করেই তাঁর চুক্তি পুনর্বিবেচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত।

বোর্ডের এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, “ভারতীয় ক্রিকেটের ক্ষমতার কেন্দ্রে গম্ভীরের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। ভারত যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারে বা অন্তত ফাইনালে পৌঁছায়, তবে তাঁর দায়িত্বে কোনও সমস্যা হবে না। তবে টেস্ট দলেও তিনি থাকবেন কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের কাছে বিকল্প খুব বেশি নেই, কারণ লক্ষ্মণ এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।”

এদিকে ড্রেসিংরুমের অন্দরের ছবিটাও নাকি বেশ বিভ্রান্তিকর। রাহুল দ্রাবিড়ের সময়ের মতো স্পষ্ট ভূমিকা বণ্টন না থাকায় অনেক ক্রিকেটারই গম্ভীর-যুগে নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। দ্রাবিড়ের তিন বছরের মেয়াদে খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে শুভমন গিলের বাদ পড়ার নেপথ্যেও গম্ভীরের প্রভাব ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এতে অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে – যদি ভবিষ্যতের ‘পোস্টার বয়’ বাদ পড়তে পারেন, তবে কারও জায়গাই স্থায়ী নয়।

নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বিসিসিআই বরাবরই সময় নেয়। ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই শুরু হবে আইপিএল, যা চলবে প্রায় দু’মাস। সেই সময়ের মধ্যেই বোর্ড ঠিক করবে – স্প্লিট কোচিং হবে, নাকি সব ফরম্যাটে একজনই কোচ থাকবেন।

যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এসব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “এসব গুজব। আমরা কারও সঙ্গে কোচিং নিয়ে আলোচনা বা যোগাযোগ করিনি। চুক্তি অনুযায়ী গম্ভীর তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন।”

তবু বাস্তবতা একটাই – সমর্থন যতই শক্ত থাকুক না কেন, গৌতম গম্ভীরের জন্য আগামী দু’মাস যে ভীষণ চাপের হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।