ইকবাল হুসেন চৌধুরী, হাইলাকান্দি, ২৩ নভেম্বর :- জালিয়াতি সার্টিফিকেটে জল জীবন মিশনে নিযুক্তি! হাইলাকান্দি জেলার নিতাইনন্দপুর প্রথম খন্ডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতি সার্টিফিকেট ব্যবহার করে জল জীবন মিশনের রাজা টিল্লা জল প্রকল্পে নিযুক্তির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র মারুফ আলম চৌধুরীর (বয়স ১৪ বছর) বিরুদ্ধে। এই গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিতাইনন্দপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফখরুল ইসলাম লস্কর। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে অষ্টম শ্রেণী পাসের ভেজাল সনদ জমা দিয়ে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। জন্মতারিখে দুই তথ্য – ধরা পড়ল জালিয়াতি ভেজাল এইট পাস সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ- ২০/০৬/২০০৫ কিন্তু স্কুলের ২০২১ সালের এডমিশন
রেজিস্টারে মারুফ আলম চৌধুরীর সত্যিকারের জন্ম তারিখ- ০৬/০৪/২০০৯ সে হিসেবে ১৩/১১/২০২৪ তারিখে নিযুক্তির সময় মারুফের বয়স মাত্র ১৪ বছর ১১ মাস ১৭ দিন – যা সরকারি নিয়োগের ন্যূনতম বয়সের অনেক নিচে। জমি দাতাকে বঞ্চনা, প্রতারণার অভিযোগ জল জীবন মিশনের জন্য জমি দান করেছিলেন আমির হোসেন বড়ভূঁইয়া, প্রত্যাশা ছিল যে তাঁর ছেলেকে প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, নির্দিষ্ট গোপন চক্রান্তে ইউজার কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় তাকে একযোগে বঞ্চিত করা হয়েছে। বরং ভেজাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একই গ্রামের জামাল উদ্দিন চৌধুরীর নাবালক পুত্রকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এসডিও ও পুলিশের তদন্ত চলছে। এই ঘটনার পর জমিদাতা আমির উদ্দিন বড়ভূঁইয়া হাইলাকান্দির জল জীবন মিশনের এসডিও–র কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে কালাচড়া পুলিশ আউটপোস্টে একটি

মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে কালাচড়া পুলিশ দলবল নিয়ে নিতাই নন্দপুর হাই স্কুলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রথমে প্রধান শিক্ষক সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, পুলিশ যখন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর সার্টিফিকেটের ‘মুড়া বই’ ও এডমিশন রেজিস্টার পরীক্ষা করে, তখন জালিয়াতির প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুলিশ স্কুলের সার্টিফিকেটের বুক এবং এডমিশন রেজিস্টার জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জমিদাতা আমির উদ্দিন বড়ভূঁইয়া মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র নিতাইনন্দপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
