যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি শিলচর,০৭ নভেম্বর: সম্প্রতি করিমগঞ্জ জেলার এক রাজনৈতিক সভায় “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর লেখা এই গানটি গাওয়ার অপরাধে জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আসামের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে মামলা দায়ের করার ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় শিলচরের শহীদ ক্ষুদিরাম মুর্তির পাদদেশে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সমবেত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন ও প্রতিবাদী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, প্রাক্তন অধ্যক্ষ পরিতোষ চন্দ্র দত্ত, অধ্যাপক অজয় রায়, শ্রমিক নেতা নির্মল কুমার দাস, প্রাক্তন শিক্ষক সীমান্ত ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিশ্বজিৎ দাস, সমাজকর্মী সঞ্জীব রায়, আশু পাল, দীপক সেনগুপ্ত , স্নিগ্ধা নাথ।
বক্তারা বলেন করিমগঞ্জ জেলার এক রাজনৈতিক সভায় “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গানটি গাওয়ার অপরাধে আসামের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ খুবই উদ্বেগ জনক। এই গানটি গাওয়াকে দেশের প্রতি অপমান বলে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সরাসরি আক্রমণ।
তারা বলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটি রচনা করেছিলেন ১৯০৫ সালে। যখন লর্ড কার্জন স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান বাংলাকে ভাগ করতে ডিভাইড অ্যান্ড রুল (বঙ্গভঙ্গ) পলিসি গ্রহণ করেছিল। উপনিবেশিক ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই সংগ্রামে, উৎসাহিত করেছিল এই গান। স্বদেশ পর্যায়ের দেশাত্মবোধক এই গানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অনেক আগেই এই গানের জন্ম। এই গান নিয়ে আসামের বিজেপি সরকারের আচরণ দেশের সম্প্রীতির ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

তারা এও বলেন বিজেপি নেতাদের এই গান সম্পর্কে করা মন্তব্য এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারাবাহিক ইতিহাস বিকৃতি, সিলেবাস পরিবর্তন, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো, অবৈজ্ঞানিক – অপবিজ্ঞান – কুসংস্কারের প্রসার, যুক্তিবাদ – নবজাগরণের মহান চরিত্রকে কালিমালিপ্ত ঘটনার মতো ধারাবাহিক ঘটনা। একে রুখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন ঐক্যবদ্ধ লড়াই প্রয়োজন।
আজকের এই প্রতিবাদী সভায় উপস্থিত ছিলেন ভবতোষ চক্রবর্তী, বনানী রায় চৌধুরী, শান্তি ভট্টাচার্য, জয়দীপ ভট্টাচার্য, সুকল্পা দত্ত, মানস দাস, প্রবীর রায় চৌধুরী, আদিমা মজুমদার, বিশ্বজিৎ শীল, বিজয়া কর, সত্যজিৎ গুপ্ত, স্বপ্না ভট্টাচার্য, কেশব চক্রবর্তী, দুলালী গাঙ্গুলী, স্বাগতা ভট্টাচার্য, প্রশান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ।
