মুখ্যমন্ত্রী ড হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দৃষ্টিভঙ্গি: প্রত্যেকের দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা: মন্ত্রী কৌশিক রায়!

জনসংযোগ, শিলচর, ০৯ অক্টোবর :- লক্ষীপুরের লাবক চা বাগান খেলার মাঠে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মেগা হেল্থ ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে রাজ্যের খাদ্য, গণবন্টন, ভোক্তা সুরক্ষা ও আইনি পরিমাপ, খনিজ ও বরাক উপত্যকা উন্নয়নমারগিনা কৌশিক রায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে ‘সেবা হি সমর্পণ, সেবা সপ্তাহ’ কর্মসূচির এই উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী ডা. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে দূরবর্তী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাবে।”

মন্ত্রী কৌশিক রায় উল্লেখ করেন, কাছাড় জেলায় এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের ধারাবাহিকতা সেপ্টেম্বর ১৭ থেকে শুরু হয়ে ধলাই, শিলচর এবং লক্ষিপুরে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি কেবল স্বাস্থ্য শিবির নয়, এটি সরকারের পক্ষ থেকে মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও সুস্থ ভবিষ্যতের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার।”

শিবিরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিশুদের জন্য ০ – ১৮ বছর বয়সের ৫৯টি রোগের লক্ষ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা। মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, “এই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যা পরিবারকে সুরক্ষিত রাখছে এবং সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলছে।” এছাড়াও বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য ডিসেবিলিটি সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়, যা শিবিরের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন চা বাগানের শ্রমিক এবং গ্রামীণ পরিবারগুলিকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেও এই অঞ্চলের মানুষ। তাদের কঠিন পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার সমস্যা আমি জানি। আমাদের সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট, কেউ পিছিয়ে থাকবে না। সুস্থ অসম গড়াই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”

শিবিরে কাছাড় জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয় প্রশংসনীয়। জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব, শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর গুপ্ত, স্বাস্থ্যকর্মী এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। শিবিরে বক্তব্য রাখেন জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব, তিনি বলেন, “এই শিবির একত্রিত প্রচেষ্টার চমৎকার উদাহরণ। আমরা ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখব।”

এদিকে, কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার নুমল মাহত্তা বলেন, “আজকের এই মেগা হেলথ ক্যাম্প প্রমাণ করে যে, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা মানবিক ও জনমুখী হতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এটি জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার প্রকৃত উদাহরণ।”

লক্ষিপুর সম জেলা আয়ুক্ত ধ্রুবজ্যোতি হাজরিকা জানান, সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার কারণে জনসাধারণের বিশাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা প্রদর্শন করে। শিলচর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর গুপ্ত তার ভাষনে বলেন, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনোকোলজি, পেডিয়াট্রিকস, চোখ এবং অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল চিকিৎসা প্রদান করছেন।

স্বাগত বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডা. শিবানন্দ রায় বলেন, “এটি কেবল স্বাস্থ্য শিবির নয়, এটি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আন্দোলন। প্রত্যেক নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সুস্থ সমাজ গড়া আমাদের লক্ষ্য।”

মেগা হেলথ ক্যাম্পে প্রায় ১০,০০০ মানুষ উপস্থিত হয়, এবং ৭,৭২৫ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়, শিশুদের লক্ষ্যিত স্ক্রিনিংসহ। প্রায় ৫৩৮ রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বা অন্যান্য বিশেষায়িত কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে।

শিবিরের সুবিধা এবং কার্যক্রমের বিস্তার চমকপ্রদ। এখানে মোট ৮৩টি কাউন্টার ছিল, যার মধ্যে ২৭টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বার, ৩০টি রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার এবং ১৫টি রেফারেল কাউন্টার। এছাড়াও আধার, রেশন কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত, ইউডিআইডি, টিকাদান ও ফিট ইন্ডিয়া ক্যাম্প এর মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা প্লে জোন রাখা হয়েছে, যা পুরো পরিবারকে আনন্দ ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিয়েছে।

এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী আধিকারিক প্রণব কুমার বরা, এসিএস, লক্ষ্যজিৎ গগৈ, লক্ষিপুর স্বাস্থ্য শাখা আধিকারিক এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।