‘মেয়ে কেন জন্মাল?’ – নবজাতকের মুখে বিষ ঢেলে খুনের চেষ্টা ঠাকুমার! ঝাড়গ্রামে নারকীয় ঘটনা, গ্রেফতার অভিযুক্ত

সংবাদ সংস্থা, ৩ নভেম্বর :- বিশ্বকাপের ফাইনালে যখন দেশের মেয়েরা মাঠে নামছেন, সারা দেশ যখন নারীশক্তির জয়গান গাইছে – তখনই পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে ঘটল এক লোমহর্ষক ঘটনা। অভিযোগ, কন্যাসন্তান জন্মানোর অপরাধে সদ্যোজাত শিশুর মুখে বিষ ঢেলে খুনের চেষ্টা করেছেন তারই ঠাকুমা।

ঘটনাটি ঘটেছে গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের তালগ্রাম এলাকায়, বেলিয়াবেড়া থানার অন্তর্গত। অভিযুক্ত ঠাকুমাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবারই তাকে ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনায় সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে নিন্দা ও চাঞ্চল্যের ঢেউ।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে গ্রামেরই এক ২২ বছরের যুবকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছিল ওই নাবালিকা। কিছুদিন চেন্নাইয়ে থাকার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সে ফিরে আসে বাপের বাড়িতে। সম্প্রতি জন্ম দেয় এক কন্যাসন্তান।

এরপর নবজাতককে নিয়ে সে শ্বশুরবাড়ি গেলে শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ, মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শনিবার সকালে শিশুকন্যার মুখ থেকে গ্যাজলা বেরোতে দেখা যায়। সন্দেহ হলে পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রথমে গোপীবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে, পরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় শিশুটিকে। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, পেট ওয়াশ করার পরও শিশুটি তীব্র শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনিতে ভুগছে। বর্তমানে হাসপাতালের এফএনসিইউ বিভাগে সংকটজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে সে।

নবজাতকের মায়ের অভিযোগ – “ছেলে নয়, কেন মেয়ে জন্মাল”,এই কারণেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তার শাশুড়ি। রাগের মাথায় সদ্যোজাত শিশুর মুখে বিষ ঢেলে দেন।

নাবালিকার মামাতো দাদার কথায়, “আমার বোনের শাশুড়িই ওর বাচ্চার মুখে বিষ ঢেলেছে। ছেলে না হয়ে মেয়ে হওয়াটাই ছিল অপরাধ।”

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে যায় বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ। জেলা পুলিশের ডিএসপি জানিয়েছেন, “অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি মর্মান্তিক।”

ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক বলেন, “এমন অমানবিক ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়ানো হবে। রাজ্যে ‘কন্যাশ্রী’ , ‘মাতৃত্বকালীন প্রকল্প’ – এর মতো উদ্যোগ চালু রয়েছে। সমাজের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”

এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ঠাকুমার কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা।

একজন প্রতিবেশীর কথায়, “আজকের দিনে এমন চিন্তাভাবনা লজ্জাজনক। মেয়ে-ছেলে সমান, তবু এমন মানসিকতা মানা যায় না।”

একদিকে নারীশক্তির জয়ধ্বনি, অন্যদিকে ‘মেয়ে জন্মেছে’ বলে বিষ ঢেলে খুনের চেষ্টা – সমাজের এই দুই চিত্রই যেন আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিচ্ছে।