যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৩০ মার্চ :- আসন্ন ৯ই এপ্রিল ৫৬ নং ধর্মনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে বিরোধীরা। বিশেষ করে কংগ্রেস শিবির থেকে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলে বিজেপিকে কার্যত চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে।ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য-এর সমর্থনে জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ধর্মনগরের বিভিন্ন প্রান্তে জনসংযোগে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মন সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার উন্নয়নের নামে শুধুই প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনে তার কোনও প্রতিফলন নেই। তাঁর কথায়, ধর্মনগরের বহু এলাকায় এখনও পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও রাস্তার মতো মৌলিক পরিকাঠামোর অভাব স্পষ্ট। সুদীপবাবু কটাক্ষ করে বলেন, “উন্নয়ন হয়েছে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও দলীয় সমর্থকদের – যারা আজ বিপুল সম্পদের মালিক। সাধারণ মানুষ সেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ”শুধু তাই নয়, তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন, অর্থবল, বাহুবল এবং ইভিএমের উপর নির্ভর করেই বিজেপি নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছে।এছাড়াও এক বিজেপি মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এডিসি নির্বাচনে যাকেই ভোট দেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত তা বিজেপির কাছেই যাবে – এই বক্তব্য গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবমাননা।”
আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় এক কাউন্সিলর নাকি প্রকাশ্যে বলেছেন যে ভোট না দিলেও বিজেপির প্রার্থী জয়ী হবে। এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি “গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি” বলে অভিহিত করেন।কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, এই উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষই শেষ কথা বলবেন এবং তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন। কংগ্রেস জয়ী হলে ধর্মনগরে শান্তিশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান।উপনির্বাচনকে ঘিরে এই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ধর্মনগরের রাজনৈতিক ময়দান। এখন নজর ৯ই এপ্রিল – ভোটবাক্সে কী রায় দেন সাধারণ মানুষ, সেটাই ঠিক করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ।
অভিযোগে ঘেরা বিজেপি, ধর্মনগরে পরিবর্তনের ডাক কংগ্রেসের
