অভাবী পড়ুয়াদের স্কুলে পুনর্ভর্তির উদ্যোগ স্থানীয় বিধায়কের

যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ১৬ সেপ্টেম্বর :- অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে বহু শিশু-কিশোরদের। আর সেই শিশুদের স্কুলমুখী করতে এবার সরব হলেন ত্রিপুরা বিধানসভার সদস্য তথা উওর জেলার যুবরাজনগর কেন্দ্রের বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ। গত এক বছরে এবং চলতি শিক্ষাবর্ষে হাফলংছড়া টি,ই বিদ্যাজ্যোতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি ফি জমা দিতে না পারায় বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং যুবরাজনগরের স্কুল ইন্সপেক্টরের উদ্দেশ্যে সোমবার নোটিশ প্রদান করেন বিধায়ক। সে দিন উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় চা শ্রমিক ইউনিয়নের রাজ্য কমিটির সদস্য মাখন পাল, পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত ১৮ জন ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিবাবক গন। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন – এটি শিক্ষা অধিকার আইন (RTE) ২০০৯-এর সরাসরি লঙ্ঘন। কারণ ওই আইনে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু সরকারি বিদ্যালয়েই নয়, বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত শিশুদের জন্য। অথচ অর্থের অভাবে হাপলংছড়ার দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ তার নোটিশে জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন – নতুন শিক্ষা নীতির মূল উদ্দেশ্য হল সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষায়ও বৈষম্যহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা। তাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কোন শিশুকে আর্থিক কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া যায় না। নোটিশে বিধায়ক তিন দফা প্রস্তাব দেন – ১. অবিলম্বে স্কুল বন্ধ করা ছাত্রছাত্রীদের পুনর্ভর্তি করতে হবে।২. অভিভাবকেরা দৈনিক মজুরির শ্রমিক হওয়ায় তাদের ভর্তি ফি ও পরীক্ষা ফি সম্পূর্ণ মকুব করতে হবে।৩. বিষয়টি শিক্ষা দপ্তর এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব পড়ুয়াদের শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। নোটিশের সঙ্গে স্কুল বন্ধ করা ছাত্রছাত্রীদের একটি তালিকা সংযুক্ত করে দেন বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ। বিধায়ককে স্কুল ইনস্পেক্টর আশ্বাস দিয়েছেন ছাত্র ছাত্রীদের পুনরায় স্কুল মুখি করার উদ্যোগ নেবেন এবং ছাত্রছাত্রীদের যাতে স্কুলের ব্যপারে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থ গ্রহণ করবেন। স্থানীয় মানুষজন এবং অভিভাবকদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।