রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১১ মার্চ :- উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে আবারও বসতে চলেছে নাট্যপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক আসর ‘বিশ্ববন্ধু সেন স্মৃতি ১১তম নাট্যমঞ্চ নাট্যোৎসব’। লার্নার্স এডুকেশনাল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই নাট্যোৎসব আগামী ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ধর্মনগরের অর্দ্বেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের বিভিন্ন নাট্যদল অংশগ্রহণ করবে এবং প্রতিদিন দর্শকদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় নাট্য পরিবেশনা। এই নাট্য উৎসব কে কেন্দ্র করে লারনার্স এডুকেশনাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যোক্তারা জানান, “নাটক থেকে মানবতার অধীন, নাটক থেকে মঞ্চ স্বাধীন” – এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই এবারের নাট্যোৎসব আয়োজন করা হয়েছে। নাটকের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। ১১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনের দিন নাট্যজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে নাট্যমঞ্চ নাট্য প্রতিভা সম্মাননা প্রদান করা হবে। সম্মাননা প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন সীমা দাস ও অমরজিত সরকার। নাট্য উৎসবের পাচ দিনের জন্য প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার আহ্বান জানান, উদ্বোধনী দিনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘অন্ধকার মাঝে দেখা হয়েছিল’ নাটকটি। নাট্যকার ও নির্দেশনায় থাকবেন সংকল্পিত বসু এবং প্রযোজনায় থাকবে মধ্যমণি নৃত্যবিতান, পশ্চিমবঙ্গ। উৎসবের দ্বিতীয় দিন মঞ্চস্থ হবে ‘এমন যদি হতো’ নাটক। নাট্যকার মণিদীপ দাস এবং নির্দেশনায় সৃষ্টি দাস। একইদিনে দর্শকদের জন্য আরও একটি আকর্ষণীয় নাটক ‘ওথেলো রিটার্নস’ মঞ্চস্থ হবে। তৃতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আকর্ষণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পূর্ণাঙ্গ নৃত্যনাট্য ‘বিসর্জন’। চতুর্থ দিন মঞ্চস্থ হবে ‘অন্ধকারের গর্জন’ একইদিনে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হবে ‘ঘরে ফেরা’ নাটকটি এবংনাট্যোৎসবের শেষদিন মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নাটক ‘নৌকাডুবি’।নাট্যোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে শুরু হবে ‘এক টুকরো শান্তিনিকেতন’ মেলা। এই মেলায় বোলপুর শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্পীদের তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তা, ডোকরা শিল্পকর্ম, ব্যাগসহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন বিকেলে লোকনৃত্য ও ধামাইল নৃত্যের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে।উদ্যোক্তাদের মতে, এই নাট্যোৎসব শুধু নাট্যপ্রেমীদের জন্যই নয়, ধর্মনগরের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের শিল্পীদের মিলনমেলায় এই উৎসব ধর্মনগরবাসীর জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন। নাট্যপ্রেমী দর্শকদের এই উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
র্মনগরে শুরু হচ্ছে বিশ্ববন্ধু সেন স্মৃতি ১১তম নাট্যমঞ্চ নাট্যোৎসব, পাঁচ দিন ধরে নাটকের উৎসব
