ডেঙ্গু সহ আবর্জনা থেকে সৃষ্ট রোগব্যাধি দূরীকরণে NHM র সতর্কবার্তা!
উৎসর্গ রায়, ধর্মনগর, ২ ডিসেম্বর :- উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (N.H.M)-এর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তুলতে জেলা পর্যায়ের একদিনের মিডিয়া সংবেদনশীলতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার এনএইচএম – এর বিভিন্ন চলমান স্বাস্থ্যকর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করে তুলতেই মঙ্গলবার সকালে ধর্মনগরের একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত হয় এই কর্মশালার। এতে ধর্মনগরের সকল সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার চিফ মেডিকেল অফিসার ড. দীপক হালদার, জেলা টিকাকরণ আধিকারিক সোম্য কান্তি সিনহা সহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা :-
ডেঙ্গু মশা দিনের বেলায় কামড় দেয় – এ কারণে দিনের বেলায় ফুল হাতা পোশাক পরা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও রাবার বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের ফুল স্লিভ পোশাক পরে কাজ করা উচিত। যে সব পাত্রে জমে থাকা জল ব্যবহারযোগ্য নয়, সেগুলি অবিলম্বে ফেলে দিতে হবে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে নয়, মাইকিং, বাড়ি বাড়ি প্রচারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। আশপাশে আবর্জনা না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এ ধরনের নোংরা স্থানেই মশা ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকেই রোগ ছড়ায়।
ওষুধ ও রোগ প্রতিরোধ :-
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বর বা মাথা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনও ওষুধ সেবন না করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. দীপক হালদার জানান, এনএইচএম-এর আওতায় রোগ প্রতিরোধ, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, টিকাকরণ, পুষ্টি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য কাঠামো শক্তিশালীকরণসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি উত্তর ত্রিপুরা জেলায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচি সম্পর্কে জেলার মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ড. হালদারের মতে, মিডিয়ার সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসচেতনতা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই ভবিষ্যতেও এনএইচএম – এর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরাও জেলার স্বাস্থ্য পরিসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সংবাদমাধ্যম ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সমন্বয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এদিনের উদ্যোক্তরা।
