ধর্মনগরে কথাচিত্রনাট্য উৎসব ২০২৬: সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার মিলনমেলা

রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১১ মার্চ :- র্মনগরের মধ্যনয়াপাড়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কথাচিত্র’ -এর উদ্যোগে গত ৮ই মার্চ রবিবার অর্ধেন্দু ভবনে অনুষ্ঠিত হলো “স্মরণে বিশ্ববন্ধু সেন – রাজিব অভিরূপ স্মৃতি কথাচিত্র নাট্য উৎসব ২০২৬”। সারাদিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নাট্যচর্চা, বিতর্ক, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা এবং নাট্য মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছিল ধর্মনগরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বের সূচনা হয় সকাল ১১টায়। দিনটি যেহেতু আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়, তাই নারী দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা রমা দেবী উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক অজয় কুমার রায়, ‘একজোটে নাট্যচর্চা’-র আহ্বায়ক সুমিত নাথ চৌধুরী সহ সংগঠনের অন্যান্য নাট্যকর্মীরা। উদ্বোধনের পর অর্ধেন্দু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রাণবন্ত বিতর্কসভা। বিতর্কের বিষয় ছিল – “নাটকে লোকশিক্ষা হয়, বিনোদন নয়”। এই পর্বটির সঞ্চালনা করেন প্রবীণ সাংবাদিক অজয় কুমার রায়। বিষয়টির পক্ষে বক্তব্য রাখেন নাট্যকার দীপঙ্কর গুপ্ত, স্বরূপ ঘোষ, রঞ্জিত পুরকায়স্থ এবং কবি অনিমেষনাথ। অপরদিকে বিপক্ষে বক্তব্য রাখেন কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য, বাচিক শিল্পী দেবাশীষ দাস, নাট্যকার প্রাঞ্জয় সিনহা এবং কবি অভিজিৎ চক্রবর্তী। যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও উপস্থাপনার গুণে বিতর্কসভাটি দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল তিনটায়। এ সময় আয়োজিত হয় শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা। বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ডাকঘর” নাটকের গল্পের চিত্রপট। এতে নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মঞ্চস্থ হয় “ডাকঘর” নাটকটি, যার প্রযোজনা ছিল ক্লাসিক কালচারাল ইউনিট, ধর্মনগর।নাটক শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্যায়, যেখানে পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা “ডাকঘর” নাটকটি দেখার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ছবি আঁকায় অংশগ্রহণ করে। সন্ধ্যায় অর্ধেন্দু ভবনের মঞ্চে একের পর এক নাট্য মঞ্চায়ন দর্শকদের মন জয় করে। আসামের হাইলাকান্দির বিবর্তন থিয়েটার গ্রুপ মঞ্চস্থ করে “ব্ল্যাক কফি”, যার রচনা ও নির্দেশনা দেন সায়ন বিশ্বাস। এরপর শিলচরের ফোর্থ ওয়াল নাট্যদল পরিবেশন করে হিন্দি নাটক “বলি অউর শম্ভু”, রচনা মানব কল এবং নির্দেশনায় অমিতাভ দে। ধর্মনগর শহরে দীর্ঘদিন পর কোনো হিন্দি নাটকের মঞ্চায়ন হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার ছোঁয়া। অর্ধেন্দু ভবনের বাইরে চলছিল ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করে ধর্মনগরের দুটি সুপরিচিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কলামণ্ডল এবং তমালিনীর ছায়া। সারাদিন ব্যাপী এই কথাচিত্রনাট্য উৎসব ধর্মনগরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমীরা।