এফসিআই ধর্মনগর ডিপোতে হামলার অভিযোগ, দুই ট্রাক স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ – শ্রমিক নিষিদ্ধের জেরে অবরোধে খাদ্য সরবরাহে সংকট

রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১১ মার্চ :- ভারতের খাদ্য নিগম–এর ধর্মনগর ফুড স্টোরেজ ডিপোতে সংঘটিত এক সহিংস ঘটনার জেরে দুটি ট্রাককে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আগরতলার এফসিআই ডিভিশনাল অফিস থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়েছে, এই দুটি গাড়ি আর দেশের কোনো এফসিআই ডিপোতে প্রবেশ বা কাজ করতে পারবে না।জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ধর্মনগর এফএসডি ডিপোর ওয়েইব্রিজ ও অফিস চত্বরে একটি গুরুতর ঘটনা ঘটে। ডিপো ম্যানেজারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি ধর্মনগর থানায় জানানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যান্ডলিং ও ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রাক্টের অধীনে কাজ করা ট্রাক নং TR02A1790 – এর চালক রাজিব আলি এবং ট্রাক নং TR01K1771 – এর চালক লিটন মিয়া ডিপোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করে কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে তারা লোহার রড ও ইট দিয়ে এফসিআই কর্মীদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনায় ডিউটিতে থাকা ডি.জি.আর সিকিউরিটি কর্মী গণেশ দেববর্মা লোহার রডের আঘাতে আহত হন। পাশাপাশি এফএসডি ধর্মনগরের কিউসি ম্যানেজার গৌরব বশিষ্ঠ মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর জখম হন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এফসিআই কর্তৃপক্ষ TR01K1771TR02A1790 নম্বরের ট্রাক দুটি অবিলম্বে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মালিকদের নামে নিবন্ধিত অন্য কোনো গাড়িও ভারতের কোনো এফসিআই ডিপোতে প্রবেশ বা কাজ করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে চুক্তি অনুযায়ী এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।এদিকে ধর্মনগরের এফসিআই গুদামে অনিয়মের অভিযোগে আরও চারজন হ্যান্ডলিং শ্রমিককেও সমস্ত এফসিআই কার্যক্রম থেকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খাদ্য নিগমের আগরতলা ডিভিশনাল অফিস থেকে জারি করা এক নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সূত্রের খবর, উত্তর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টরের পক্ষ থেকে গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এফসিআই কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, ধর্মনগর এফএসডি গুদাম থেকে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম – এর খাদ্যশস্য উত্তোলনের সময় কিছু হ্যান্ডলিং শ্রমিক লোডিং কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এফসিআই। তদন্ত চলাকালীন ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ত্রিপুরা সরকারের খাদ্য ও পরিবহন বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয় এবং কয়েকজন শ্রমিকের নাম উঠে আসে।তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত চার শ্রমিক হলেন – রুপু নন্দী, ফকরুল ইসলাম, দীপক কুমার সিং এবং সুদীপ দেবনাথ। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পিডিএস খাদ্যশস্য লোডিং কাজে বাধা সৃষ্টি করা এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই বিষয়ে ১৩ জানুয়ারি এফসিআই-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠানো হয় এবং সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত চার শ্রমিককে অবিলম্বে এফসিআই- এর সব ধরনের কাজ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বর্তমানে বা ভবিষ্যতে এফসিআই-এর অধীনে কোনো কাজেও তাদের যুক্ত করা যাবে না। পাশাপাশি তাদের পরিবর্তে নতুন চারজন শ্রমিক নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের একাংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে বর্তমানে খাদ্য দপ্তরের বিভিন্ন রেশন দোকানে খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগবাসা বিধানসভার বিধায়ক যাদব লাল নাথ। তিনি ডিপোর অফিস ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত শ্রমিকদের কর্মবিরতি শেষ করে ডিপোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের রেশন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।