রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১১ ফেব্রুয়ারি :- ধর্মনগর শহরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ছোট ছোট দোকান ভাঙচুর করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। সম্প্রতি ধর্মনগর পুরপরিষদের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বহু দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বুধবার উচ্ছেদ হওয়া দোকানের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেন সিপিআইএম নেতৃবৃন্দ। এদিনের পরিদর্শন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য তথা সিআইটিইউ রাজ্য নেতৃত্ব অমিতাভ দত্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হকার্স ইউনিয়নের ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সম্পাদক সুশেন পাল, সিআইটিইউ ধর্মনগর মহকুমা কমিটির সম্পাদক জহরুল হক, সভাপতি নিরঞ্জন দেবনাথ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।নেতৃবৃন্দরা ধর্মনগর পূর্ব বাজার, বিবিআই স্কুলের সামনের রাস্তার পার্শ্ববর্তী এলাকা সহ শহরের বিভিন্ন উচ্ছেদ হওয়া স্থান ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, পূর্ব নোটিশ ছাড়া শুধু মৌখিক ভাবে জানিয়ে হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, ফলে তাঁরা মালপত্র সরিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সময় পাননি। বহু দোকানের মালপত্র নষ্ট হয়েছে লুটপাট ও হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।পরিদর্শন শেষে অমিতাভ দত্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এই ধরনের ভাঙচুর মোটেই কাম্য নয়। এটি সম্পূর্ণ অমানবিক পদক্ষেপ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা যায় না।” তিনি আরও বলেন, শহরকে সুন্দর করার নামে যদি সাধারণ মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়া হয়, তবে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।অমিতাভ দত্ত রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের পুনরায় বসার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করে, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। হকার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায়ীরা পুরপরিষদে কর ও অন্যান্য ফি প্রদান করে আসছিলেন। হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযানে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, উচ্ছেদ নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শহরবাসীর একাংশের মতে, পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।ধর্মনগরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প পুনর্বাসনের দাবি রাজ্য সরকার কত দ্রুত বাস্তবায়িত করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ধর্মনগরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ: ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শনে সিপিআইএম
