রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১১ ফেব্রুয়ারি :- ত্রিপুরার উত্তর জেলার যুবরাজনগর ব্লকের অন্তর্গত বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় পঞ্চায়েত অফিস ভবন। অগ্নিকাণ্ডে পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের।

বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখতে পান, পঞ্চায়েত অফিসের ভেতর দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয় বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইনচার্জ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ এবং ধর্মনগর দমকল দপ্তরে। খবর পেয়ে ধর্মনগর দমকল বিভাগের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দমকল কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে পুরো পঞ্চায়েত অফিসটি আগুনে পুড়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরে বাগবাসা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েতের ইনচার্জ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ। তিনি জানান, এক পঞ্চায়েত সদস্যের কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছান। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তাঁর দাবি,অগ্নিকাণ্ডে পঞ্চায়েতের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং দামী আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাবুল দেবনাথ ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে এসে দেখি পুরো অফিস আগুনে ভস্মীভূত। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ”দমকল বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগেও বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েতে চুরির

অভিযোগ উঠেছিল। তার উপর মার্চ মাসের শুরুতেই এই অগ্নি কাণ্ডের ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুধবার ভোররাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল নাথ। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে পঞ্চায়েত অফিসটি জ্বালিয়ে দিয়েছে, যার ফলে সমস্ত নথিপত্র নষ্ট হয়েছে।বিধায়কের এই দাবিকে ঘিরে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত স্থানীয়দের একাংশ এই দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার মতে, “পুলিশ যদি সঠিকভাবে তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তবে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।” এখন সকলের নজর বাগবাসা থানার পুলিশের তদন্তের দিকে। এই রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী – তা উদ্ঘাটিত হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
