ধর্মনগরের বিবিআই মাঠে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস

রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ২২ জানুয়ারি :- উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের বিবিআই মাঠে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ- উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জাতীয় উৎসব পরিণত হয় এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য, জেল (স্বরাষ্ট্র) ওবিসি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা মহোদয়ার হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলনের পর সমবেত বাহিনীর কুচকাওয়াজ ও সালামি প্রদর্শিত হলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে দেশপ্রেমের আবহ আরও গভীর হয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজে অংশ নেয় বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে তোলে।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর মন্ত্রী সান্তনা চাকমা উপস্থিত সকলকে সম্বোধন করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, সংবিধানের মর্যাদা এবং লক্ষ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের কথা। তিনি বলেন, ত্রিবর্ণ রঙের পতাকা যখন আকাশে উড়ে ওঠে, তখন তা কেবল একটি পতাকা নয় – তা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস,

গণতন্ত্রের শক্তি ও সংবিধানের আদর্শের প্রতীক। এই পবিত্র দিনে তিনি ত্রিপুরাবাসী সহ সমগ্র ভারতবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রণাম জানান। এরপর প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুরু হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য প্রতিবছরের মতো এ বছরও কৃতি ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষা, সমাজসেবা, ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কাজে অবদানের জন্য এই সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্না নাথ, ধর্মনগর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন মিতালি দাস সেন, উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার অভিনাশ রাই, উওর জেলার জেলাশাসক চান্দনী চন্দ্রান, সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সার্বিকভাবে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধর্মনগরের বিবিআই মাঠে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস শান্তিপূর্ণ ও অত্যন্ত সফলভাবে পালিত হয়। এই দিনটি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় – বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যই ভারতের আসল শক্তি।