যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, বদরপুর, ২৫ ডিসেম্বর :- সম্প্রতি “অসম আবৃত্তি এবং সংস্কৃতি পরিষদ” এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অসম আবৃত্তি মহোৎসব – ২০২৫ এ শ্রীভূমি জেলা সাফল্যের সঙ্গে দু-দুটো শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রদর্শনীমূলক দলীয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার এবং উপস্থাপনায় তৃতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেছে শ্রীভূমি জেলা। এই দলের আবৃত্তিকার বিপ্লব দাশগুপ্ত সম্মানিত হয়েছেন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে। উল্লেখ্য যোরহাট জেলা দলীয় ভাবে প্রথম এবং নগাঁও জেলার স্বপন বড়দলই প্রথম শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে সম্মানিত হন। দিসপুরের পূর্ত বিভাগীয় প্রেক্ষাগৃহে গত ২০ শে ডিসেম্বর শনিবার প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় আসামের বিভিন্ন জেলা থেকে ৩২ টি আবৃত্তির দল অংশগ্রহণ করেন। পরিষদের প্রধান সম্পাদক গুণীন ফুকন উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়েছেন। কার্যকরী সভাপতি ড. হিতেশ গোস্বামী

প্রত্যেক আবৃত্তি দলকে স্বাগত জানিয়ে আবৃত্তি শিল্পকে বৃত্তিমুখী শিল্পে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষত ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকার জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে “অসম আবৃত্তি এবং সংস্কৃতি পরিষদ” আগামীতে পঞ্চাশ হাজার আবৃত্তিকারকে সমবেত করে বিশিষ্ট কবি অমরজ্যোতি চৌধুরী রচিত “মৃত্যু জিনার গান” শীর্ষক কবিতার আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিল্পী শ্রী হাজারিকাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে চলেছে। এই উপলক্ষে পরিষদ আসামের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ৪০০ জন প্রশিক্ষককে নির্বাচন করেছে এই কবিতাটিকে সমানরূপে অর্থাৎ এককরূপতায় আবৃত্তিযোগ্য করে তোলার জন্য। সেইসঙ্গে প্রশিক্ষণও চলছে। শ্রীভূমি জেলার পক্ষ থেকে এবারের প্রদর্শনীমূলক দলীয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বদরপুরের বাকবন্ধুর আবৃত্তিকাররা অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম বিপ্লব দাশগুপ্ত, হরপ্রসাদ কর্মকার, রুমা ভট্টাচার্য, সায়ন্তনী বসু চক্রবর্তী এবং সুতপা মুখার্জি প্রমুখ। নিবেদনে প্রথমে ছিল ড. সুলেখা চক্রবর্তীর লেখা একটি অসমীয়া কবিতা “এটি সংকল্পের সন্ধান”এবং দ্বিতীয় ও শেষ নিবেদনে ছিল সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের “দূরের পাল্লা” কবিতাটি। পরিবেশনের সময় তবলা এবং সিন্থেসাইজারে এমন মনোরম আবহ তৈরি করা হয়েছিল যা উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মনকে আকর্ষিত করেছে। বরাক উপত্যকা থেকে অংশগ্রহণকারী একমাত্র আবৃত্তিদল উপস্থাপনার সৌকর্যে তিন তাবড় বিচারক সহ উপস্থিত শ্রোতা বন্ধুদের চমৎকৃত এবং মুগ্ধ করেছে। এই কৃতিত্ব বদরপুরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করেছে তথা সমগ্র বরাক উপত্যকাকে মহিমান্বিত করেছে। মুগ্ধ দর্শক শ্রোতাদের হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সেদিনের মঞ্চ। পরিষদের পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে ওই দিনের কার্যক্রমের সূচনা হয়। তারপর প্রয়াত শিল্পী জুবিন গার্গ এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন ও অতিথি বরণের পর মঞ্চের উদ্বোধন হয়। প্রথমে পরিষদের ব্র্যান্ড আম্বাস্যাডর শ্রীযুক্ত প্রাঞ্জল শইকিয়া ও পরে বিচারকদের বরণ করে দলীয় প্রদর্শন তথা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসাম তথা ভারত বিখ্যাত আবৃত্তিকার এবং চলচ্চিত্র শিল্পী প্রাঞ্জল শইকিয়া, ড. সুলেখা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট আবৃত্তিকার এবং বিশিষ্ট কবি অমরজ্যোতি চৌধুরী,পদ্মশ্রী প্রাপ্ত শ্রীযুক্ত সূর্যকান্ত হাজারিকা প্রমুখ। উনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বক্তব্যে আসামের আবৃত্তি এবং কণ্ঠকলাকে বৃত্তিমুখী কলা হিসেবে যুব প্রজন্ম তথা জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে পরিষদের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। পরিষদ সমস্ত প্রতিযোগী ও দর্শক শ্রোতাদের সবধরনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিয়েছিল।
