সংবাদ সংস্থা, ২৪ ডিসেম্বর :- ক্রিসমাসের আগেই বাংলায় জাঁকিয়ে শীতের আমেজ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যের রাতের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রির ঘরে, যা এই সময়ের স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নীচে থাকায় বড়দিনের প্রাক্কালে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে শীতের অনুভূতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। ফলে আগামী কয়েক দিনে জবুথবু শীতে কাঁপুনি ধরতে পারে রাজ্যবাসীর।
উত্তরবঙ্গে কুয়াশার দাপট বাড়ছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু এলাকায় আগামী দু’দিন সকালের দিকে অত্যন্ত ঘন কুয়াশা দেখা যেতে পারে। এর ফলে দৃশ্যমানতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উড়ান পরিষেবায়।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে অতি ঘন কুয়াশার সতর্কতা নেই। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে।
বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম রয়েছে। আগামীকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পারদ আরও নামবে। এই সপ্তাহের মধ্যেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত শীতলতম দিনের তাপমাত্রা ছিল গত রবিবার – ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সেই রেকর্ড এই সপ্তাহেই ভেঙে যেতে পারে বলে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দফতর।
উত্তরবঙ্গে আজ, অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভ পর্যন্ত তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও বড়দিন থেকেই ঝুপ করে পারদ নামার সম্ভাবনা। আগামী দু’-তিন দিনে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। দার্জিলিং ও পার্বত্য অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি এবং নীচের দিকের জেলাগুলিতে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে রাতের পারদ।
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে তা থাকবে ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সব মিলিয়ে, বড়দিনে বাংলায় শীতের দাপট যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
