সাময়িক ভাবে বন্ধ হলো চিড়িয়াখানা, চলছে তদন্ত প্রক্রিয়া :-
সংবাদ সংস্থা, ০২ ডিসেম্বর :- সিংহকে পোষ মানাবেন, এটাই স্বপ্ন। তাই ২০ ফুট উঁচু প্রাচীর ও নিরাপত্তা বেড়া পেরিয়ে সিংহের খাঁচায় প্রবেশ করেন ১৯ বছরের তরুণ। তারপর তাঁর সঙ্গে যা হল…….
স্বপ্ন একটাই, সার্কাসের রিং মাস্টারের মত তিনিও সিংহকে পোষ মানাবেন। সেই স্বপ্নের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে নিজেই নিজের ঘোর বিপদ ডেকে আনলেন। গত রবিবার এক ১৯ বছরের তরুণ স্বপ্ন পূরণের জন্য পৌঁছে যান চিড়িয়াখানায়। ২০ ফুট উঁচু প্রাচীর ও নিরাপত্তা বেড়া পেরিয়ে সিংহের খাঁচায় প্রবেশ করেন। চমকে যাওয়া চিড়িয়াখানার দর্শকরা ঘটনাটি দেখেন এবং ক্যামেরায় রেকর্ড করেন। ভিডিয়োটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু তারপরই যা ঘটে, তা ব্যক্ত করার মত নয়। ঘটনাটি ব্রাজিলের পারাক জু় আন্তোনিও আরুদাতে(এটি একটি চিড়িয়াখানা)। গেরসন দে মেলো মাচাদো নামে ওই ১৯ বছরের তরুণ কাণ্ডটি ঘটায়। সিংহী লিওনার খাঁচায় প্রবেশ করার পর সে ওই তরুণকে টেনে নিয়ে চলে যায়। যার ফলে মাচাদো ভয়ংকরভাবে আহত হয়। তাঁকে উদ্ধার করা গেলে গুরুতর আহত অবস্থাতেই তিনি মারা যান। মাচাদোর পরিবার ও বন্ধুরা জানিয়েছে, তাঁর মানসিক সমস্যা ছিল। যার মধ্যে স্কিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। যার জন্য আগেও হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। (স্কিজোফ্রেনিয়া হল একটি মানসিক রোগ, যেখানে মানুষ বাস্তবতা ঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কিছু কল্পনা বা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে, এবং ভুক্তভোগীর ভাব বা আচরণ অস্বাভাবিক হতে পারে।) মাচাদো এর আগেও আফ্রিকায় সিংহদের সঙ্গে কাজ করার জন্য লুকিয়ে প্লেনে চড়ার চেষ্টা করেছিলেন।
অন্যদিকে, তদন্তের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে চিড়িয়াখানা। কর্তৃপক্ষ সিংহী লিওনাকে মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। কারণ সে সুস্থ এবং এই ঘটনার বাইরে তার কোনওরকম আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘ঘটনার পর লিওনাকে সঙ্গে সঙ্গে টেকনিক্যাল টিম দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এখনও পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কারণ সে অনেক মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়েছিল।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লিওনা সুস্থ, এই ঘটনার বাইরে তার কোনও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়নি এবং তাকে হত্যা করা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটোকল অনুযায়ী যা করা হয়, ঠিক তাই করা হচ্ছে: পর্যবেক্ষণ, আচরণ মূল্যায়ন, এবং বিশেষ যত্ন।’
