সংবাদ সংস্থা, ১০ নভেম্বর :- আমেরিকায় ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যোগ করল ট্রাম্প প্রশাসন। কারও হার্টের অসুখ, স্থুলতা বা ডায়েবেটিস থাকলে তাকে আর আমেরিকায় ভিসা বা গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে না। ভিসা অফিসারদের এমনটাই নির্দেশ দিল হোয়াইট হাউস। দুনিয়ার সব দেশে আমেরিকা কনসু্লেটে ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় ভিসা অফিসারদের বলে দেওয়া হয়েছে যদি কোনও ব্যক্তি খুবই বয়স্ক হোন বা তার এমন কোনও অসুখ থেকে থাকে যা আমেরিকার অর্থনীতির উপরে চাপ হতে পারে, সেইসব মানুষের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাবতে হবে। কোন কোন অসুখকে ওই তালিকায় রাখা হয়েছে? ওইসব রোগের মধ্যে রয়েছে হার্টের সমস্যা, শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যা, ক্যানসার, মেটাবলিক ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। এছাড়াও রয়েছে মানসিক সমস্যা ও ডায়াবেটিসের মতো অসুখ।
নতুন ভিসা নির্দেশিকা :-
মেমোতে বিশেষ করে স্থূলতাকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থূলতার কারণে অ্যাজমা, স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
এগুলি ব্যয়বহুল, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার কারণ হতে পারে।
ভিসা অফিসারদের দেখতে হবে যে আবেদনকারীর নিজের খরচে চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা আছে কি না।
সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভর না করে তারা যেন আজীবন চিকিৎসার খরচ চালাতে পারে।
পরিবারের স্বাস্থ্যও বিবেচিত হবে
নির্দেশিকা অনুসারে, কনস্যুলার অফিসাররা আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যও খতিয়ে দেখতে পারেন।
পরিবারের কারো শারীরিক অক্ষমতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা বিশেষ প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখা হবে।
এমন হলে আবেদনকারী হয়তো চাকরি ধরে রাখতে পারবেন না।
তখন তিনি ‘পাবলিক চার্জ’ হতে পারেন।
“পাবলিক চার্জ” নিয়মের বড় সম্প্রসারণ
আগে মার্কিন ভিসার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রধানত সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষার উপর জোর দিত।
এই নতুন নির্দেশিকা ক্ষেত্রটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
এখন দীর্ঘস্থায়ী, অ-সংক্রামক রোগকেও ভিসা যোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন অ্যাডভোকেটরা সতর্ক করেছেন যে এটি অফিসারদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিচার করার ব্যাপক ক্ষমতা দিতে পারে।
তাদের কোনো চিকিৎসা জ্ঞান ছাড়াই এটি করার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।
অভিবাসনের উপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়মের ফলে বয়স্ক আবেদনকারী এবং সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে এমন লোকেদের আইনি অভিবাসন কমতে পারে।
এটি স্থায়ী বাসিন্দাদের উপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও এটি ট্যুরিস্ট (B-1/B2) এবং ছাত্র (F-1) ভিসাসহ সব ধরণের ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই পদক্ষেপটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি বৃহত্তর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এটি আমেরিকায় প্রবেশের মানদণ্ড আরও কঠোর করছে।
এর ফলে আবেদনকারীর স্বাস্থ্য সরাসরি তাদের দেশে বসবাসের যোগ্যতার সাথে যুক্ত হচ্ছে।
মূলকথা
ভিসা অফিসাররা এখন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং স্থূলতার কারণে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যও বিবেচনা করা হতে পারে।
এই নীতি “পাবলিক চার্জ” নিয়মকে সংক্রামক রোগের বাইরেও বিস্তৃত করেছে।
এটি বয়স্ক অভিবাসী এবং দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতাযুক্তদের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
