সংবাদ সংস্থা, ২ নভেম্বর :- বিরাট আপডেট ক্রিকেটবিশ্বে! ২০১৯ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ভারতের প্রাক্তন তারকা যুবরাজ সিং ফের ফিরছেন আইপিএল ২০২৬-এ। কামব্যাক যেন তাঁর মজ্জায়! ফের দেখা যাবে জোড়া বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তিকে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে।
🔹 যুবরাজের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস :-
২০১৯ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে শেষবার দেখা গিয়েছিল যুবরাজকে। তারপর পাঁচ বছর পর ফের আইপিএলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রিকেটমহলে। সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।
সূত্র অনুযায়ী, যুবরাজ এবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন হেড কোচ হিসেবে। ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে যুবরাজের আলোচনা চলছে বলে খবর। এলএসজি অধিনায়ক ঋষভ পন্থের সঙ্গেও যুবরাজের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ, যা এই চুক্তিকে আরও জোরদার করেছে।
🔹 জাস্টিন ল্যাঙ্গারের জায়গায় যুবি ?
বর্তমানে লখনউয়ের হেড কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তবে গত দুই মরশুমে তাঁর অধীনে দল প্লে-অফে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায়, কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তাই ২০২৬ মরশুমে ল্যাঙ্গারের জায়গায় যুবরাজ সিংয়ের নামই এখন আলোচনায় শীর্ষে।
🔹 আইপিএলে যুবরাজের রঙিন ইতিহাস
যুবরাজ সিং আইপিএলে মোট ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন –
পঞ্জাব কিংস, পুণে ওয়ারিয়র্স (বর্তমানে বিলুপ্ত), রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালস), সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
তিনি আইপিএলে ১৩২ ম্যাচে ২৭৫০ রান ও ৩৬ উইকেট নিয়েছেন। সর্বোচ্চ স্কোর ৮৩ রান, আর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৪ উইকেট ২৯ রানে। ২০১৫ সালের নিলামে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস তাঁকে ১৬ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল – যা সেই সময়ের রেকর্ড ছিল। লিগের ইতিহাসে সর্বাধিক বেতনভুক্ত ক্রিকেটারদের মধ্যে আজও যুবরাজ নবম স্থানে।
🔹 আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যুবরাজ সিংয়ের মহিমা
২০০০ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয় যুবরাজ সিংয়ের।
টেস্ট :- ৪০ ম্যাচ, ১৯০০ রান ও ৯ উইকেট
ওডিআই :- ৩০৪ ম্যাচ, ৮৭০১ রান ও ১১১ উইকেট
টি২০আই :- ৫৮ ম্যাচ, ১১৭৭ রান ও ২৮ উইকেট
২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে তাঁর ৬৯ রানের ইনিংস আজও স্মরণীয়।
২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছ’টি ছক্কা হাঁকিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে স্থান করে নেন যুবরাজ।
২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য সিরিজ – ক্যানসার জয়ী এই যোদ্ধা তখন গোটা দেশকে কাঁদিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর সংগ্রাম আর সাফল্যে।
🔹 যুবির কামব্যাক মানেই রোমাঞ্চ
‘যুবরাজ মানেই কামব্যাক’ – ২০০৭ থেকে ২০১১, তারপর ক্যানসার জয়ের পর মাঠে ফেরা – প্রতিবারই তিনি প্রমাণ করেছেন, হার মানা তাঁর অভিধানে নেই। এবার যদি আইপিএল ২০২৬ – এ কোচ হিসেবে তাঁকে দেখা যায়, তবে সেটি ভারতীয় ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায় হবে নিঃসন্দেহে।
