বিপাশা দাশগুপ্ত
কলকাতা, ১০ অক্টোবর :- ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ ছিল বাঙালির ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অধ্যায়, যা আজও অনেকের কাছে অজানা বা উপেক্ষিত। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত “দ্য বেঙ্গল ফাইলস” সেই অন্ধকার সময়কে তুলে ধরার এক সাহসী উদ্যোগ, যা শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয় – বরং একটি ঐতিহাসিক দলিল। ধর্মীয় হিংসা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং বিভাজনের যে আগুনে সেদিন হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, তা আজও আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। অথচ, বাঙালির সামাজিক চেতনায় এসব ঘটনার গুরুত্ব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।
এই সিনেমাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় – আমরা কি আমাদের ইতিহাস জানতে চাই, নাকি চুপচাপ ভুলে যেতে চাই? সিনেমার মাধ্যমে ইতিহাসের এমন উপস্থাপন শুধুই অতীতের স্মরণ নয়, বরং বর্তমানের সমাজ ও রাজনীতির প্রতিফলনও বটে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক দেগঙ্গা, ধুলাগড় কিংবা বসিরহাটের মতো সংঘর্ষগুলিও দেখায়, অতীতের ছায়া আজও বর্তমানের ওপর ঘোরাফেরা করছে। এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা এবং সমাজকে সচেতন করা “দ্য বেঙ্গল ফাইলস” – এর প্রধান সাফল্য।
শেষ পর্যন্ত, “দ্য বেঙ্গল ফাইলস” আমাদের মনে করিয়ে দেয় – ইতিহাসকে শুধু বইয়ের পৃষ্ঠায় বন্দি করে রাখলে চলে না। তা থেকে শিক্ষা নিতে হয়, প্রশ্ন তুলতে হয়, এবং সাহসিকতার সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়। এই চলচ্চিত্র বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সামাজিক চেতনার পুনর্মূল্যায়নের এক প্রেক্ষাপট তৈরি করে, যা আজকের প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই ধরনের চলচ্চিত্র আমাদের সেই অধ্যায়গুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেগুলো ইতিহাসের পাতায় হয়তো উপেক্ষিত বা বিকৃত হয়েছে। এগুলো অজানা সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলে, এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে তা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে!
