সহকারী আয়ুক্ত উনহালে অশীষ বিদ্যাধরের নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযান; কড়া বার্তা দিলেন পৌর নিগমের আয়ুক্ত সৃষ্টি সিং
জনসংযোগ শিলচর, ২৫ সেপ্টেম্বর :- শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের অবৈধ ব্যবহার রুখতে মঙ্গলবার নজিরবিহীন অভিযানে নামে কাছাড় জেলা প্রশাসন ও শিলচর পৌর নিগম (এসএমসি)। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলার সহকারী আয়ুক্ত উনহালে অশীষ বিদ্যাধর, (আইএএস)। অভিযানটি ছিল সম্পূর্ণ

সমন্বিত। জেলা প্রশাসন, শিলচর পৌর নিগম, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) এবং অনুমোদিত এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে গঠিত দলে একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় হানা দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই শহরে ভর্তুকির সিলিন্ডার কালোবাজারির অভিযোগ উঠছিল। নাগরিকদের একাধিক অভিযোগ এবং গোপন খবরের ভিত্তিতেই এদিন অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযানে বেশ কিছু বাণিজ্যিক রান্নাঘরে গৃহস্থালির জন্য বরাদ্দ ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার ব্যবহার ধরা পড়ে। আধিকারিকদের দাবি, এ ধরনের অপব্যবহার শুধু সাধারণ পরিবারগুলিকে তাঁদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং জনবহুল জায়গায় অগ্নি সংক্রান্ত ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি করছে।

পৌর নিগমের নবনিযুক্ত আয়ুক্ত, সৃষ্টি সিং, আইএএস, অভিযানের পর তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, “ভর্তুকিযুক্ত এলপিজির বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের অপব্যবহার রুখতে পৌর নিগম শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রয়োজনে জরিমানা থেকে শুরু করে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত করা হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।” অভিযান পরিচালনাকারী

সহকারী আয়ুক্ত, উনহালে অশীষ বিদ্যাধর, আইএএস জানান, “এই অভিযান এক দিনের নয়, ধারাবাহিক হবে। ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার যাতে কোনওভাবেই বাণিজ্যিক চক্রে না যায়, তার জন্য আমরা নজরদারি আরও বাড়াচ্ছি। ডিস্ট্রিবিউটরদেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরবরাহ স্তরে নজরদারি বাড়াতে।” এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে অপরিহার্য পণ্য আইন (Essential Commodities Act)-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইনি শাস্তিও ভোগ করতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই অভিযানে শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। দীর্ঘদিন ধরে কালোবাজারির কারণে সাধারণ পরিবার সিলিন্ডারের ঘাটতিতে পড়ছিল বলে অভিযোগ ছিল। তাই এদিনের অভিযান তাঁদের কাছে প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপ হিসেবে ধরা পড়েছে। নাগরিক মহলে আশা, ধারাবাহিক অভিযান চালালে সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

কাছাড় জেলা প্রশাসন ও শিলচর পৌর নিগমের এই সমন্বিত পদক্ষেপে পরিষ্কার বার্তা মিলেছে, ভর্তুকি নিয়ে কারসাজি আর বরদাস্ত করা হবে না। নাগরিক স্বার্থ ও নিরাপত্তাই প্রশাসনের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
