ভারতীয় মজদুর সংঘের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ও সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার ৬ জন সদস্য, তীব্র জল্পনার সৃষ্টি রাজ্যজুড়ে!

যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২১ অক্টোবর :- ভারতীয় মজদুর সংঘের ত্রিপুরা রাজ্য শাখার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, ব্যাপক চর্চা সর্বত্র। অখিল ভারতীয় এবং ত্রিপুরা প্রদেশ ভারতীয় মজদুর সংঘের বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত দ্বারা ৬জন সদস্যকে আজীবন এর জন্য বহিষ্কার করা হয়।

সংগঠনের মধ্যে আচরণ ও কার্যকলাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করার পর পরিলক্ষিত হয় যে, ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস)-এর নীতি ও সংবিধানের পরিপন্থী একাধিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার দরুন আজ ৬জন কে চিরজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত দের মধ্যে যথাক্রমে :-

১) বিপ্লব দাস (সদস্য বি এম এস ত্রিপুরা প্রদেশ)

২) রূপ নন্দী ওরফে রজত, সহসভাপতি উত্তর জেলা বিএমএস

৩) প্রবীর ঘোষ (সহ-সভাপতি উত্তর জেলা বিএমএস)

৪) মহেশ দত্ত (পর্যাবরণ মঞ্চ উত্তর জেলা বিএমএস)

৫) রতন রায় (স্বাবলম্বী ভারত উত্তর জেলা বি এম এস)

৬) অনুপম ধর (সাধারণ কার্যকর্তা উত্তর জেলা বি এম এস)

এই ছয়জনকে ইতিমধ্যে বহিষ্কৃত করা হলো ভারতীয় মজদুর সংঘের রাজ্যিক কমিটির সিদ্ধান্তে। বহিষ্কৃত ৬ জনের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত গুরুতর অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বলে চিঠি মারফত অবগত করলেন সংবাদ মাধ্যম কে ও।

উল্লেখিত ছয়জন সংগঠনের পদকে অপব্যবহার করে স্বেচ্ছাচারিতায় উত্তর জেলা কমিটি ঘোষণা করেছেন, যেহেতু ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির (বি,এম,এস) পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই এরা সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে শামিল হয়েছেন। এই বিষয়ে এদের বিরুদ্ধে পূর্বে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল (পত্র নং 01(01)/BMS/TRP/GEN-COR/2025/206, তারিখ 04/10/2025)। যদিও তাঁরা যে জবাব দিয়েছিলেন, তা অপ্রাসঙ্গিক অসংগঠনিক ও অসন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে।

বিপ্লব দাস জেলা সম্পাদক থাকাকালীন উত্তর জেলা বিএমএস কমিটির হিসাব সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, ১ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন করা হয়েছে উত্তর জেলা বিএমএস ও ইউনিয়ন এর একাউন্টে। কিন্তু উত্তর জেলা কার্য সমিতি ও রাজ্য কমিটির কাছে কোনো প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিবেদন প্রদান না করে নয় ছয় ছাড়া বিগত ছয় বছর যাবত তাঁরা দায়িত্বে থাকাকালীন কোন রেজিস্টার্ড ইউনিয়নের মেম্বারশিপ প্রদান করেননি।

আরও জানা গেছে যে, তাঁরা চক্রান্ত করে গোপনে ত্রিপুরা প্রদেশের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য সভানেত্রী এবং অখিল ভারতীয় উত্তর – পূর্বাঞ্চলের প্রভারী (BPTMM) এদের বিরুদ্ধে ভুয়া পুলিশ মামলা দায়েরের সাথে জড়িত ছিলেন, যার ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

সবমিলিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ছয় জনকে রীতিমতো বরখাস্ত করা হয়েছে চিরতরে। মজদুর সংঘের এই উদ্যোগ সচেতন নাগরিকদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে বলে মত প্রকাশ।