সূর্যকুমারকে ‘শুয়র’ বললেন পাক ক্যাপ্টেন! প্রত্যুত্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে খেলেন ভারতীয় স্পিনার, আগুন জ্বলছে এশিয়া কাপে!

সংবাদ সংস্থা, ১৯ সেপ্টেম্বর :- ভারতীয় দলের টি-২০ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁকে কুৎসিত আক্রমণ করলেন মহম্মদ ইউসুফ। আগুন জ্বলছে এশিয়া কাপে!

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে, গত রবিবাসরীয় রাতে এশিয়া কাপে ভারত-পাক ম্যাচের (India vs Pakistan Asia Cup 2025) পর থেকেই করমর্দন কাজিয়া তুঙ্গে সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav) খেলার শেষে সলমান আঘার পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথাগত করমর্দন এড়িয়ে যান। পহেলগাঁও কাণ্ডের প্রতিবাদ ও ভারতীয় সেনার সম্মানে সূর্যকুমাররা করমর্দন এড়িয়ে যান চিরশত্রু দেশের সঙ্গে। আর এহেন কাজের জন্য ভারতীয় দলের টি-২০ অধিনায়ককে কুৎসিত ভাষায় বেনজির আক্রমণ করলেন মহম্মদ ইউসুফ (Mohammad Yousuf)। অমিত মিশ্র বললেন:

পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক – কোচ সামা টিভিতে এসেছিলেন ক্রিকেটীয় আলোচনা চক্রের অতিথি হয়ে। সেখানে শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে সূর্যকুমারকে ‘শুয়রকুমার’ বলে সরাসরি তোপ দেগেছেন। ইউসুফের এই ভিডিয়ো নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে ধুয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। মদন লালের পর এবার অমিত মিশ্র ছিঁড়েখুঁড়ে খেলেন ইউসুফকে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি সন্ন্যাস নেওয়া অমিত কেটে ফেলেছেন ইউসুফকে। টানা ২৫ বছর ২২ গজে কাটানো দেশের নক্ষত্র রিস্ট স্পিনার বললেন, ‘বন্ধুত্বের না দেখিয়ে পেশাদার অবস্থান বজায় রাখার জন্য টিম ইন্ডিয়া এবং ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে আমি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে তারা খেলার চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। একই সঙ্গে করমর্দন থেকে বিরত থেকে তারা বিশ্বকে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। ভারত পহেলগাঁও আক্রমণ ভুলে যায়নি। এই জয়কে ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য গর্ব এবং মানসিক ন্যায়বিচারের। ইউসুফ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা কতটা অশিক্ষিত। একজন টেস্ট ক্রিকেটার হয়েও তিনি এই রকম মন্তব্য করেছেন। ওরা শুধুই বাজে কথা বল। অতীতে করেছে এবং এটি চালিয়ে যাবে। ওদের আর কী করার বাকি আছে? পাকিস্তান ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে! করমর্দন না করা ভারতের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভারত খেলাধুলাকে সম্মান করে। আমাদের এরকম পাকিস্তানিদের কথা শোনা উচিত নয়। আমি ভারতীয় দলের সঙ্গে আছি। পুরো দেশ দলের সঙ্গে আছে। ভারত যে স্তরেই ক্রিকেট খেলে না কেন, নিজেদের জাত চিনিয়ে দেয়। ভারতীয় কিংবদন্তিদের কেউই এই রকমের অবমাননাকর মন্তব্য ব্যবহার করেননি। আমি পাকিস্তানিদের ক্রিকেটারও হিসেবেও বিবেচনা করব না। ভারত এবং পাকিস্তানের চিন্তাভাবনার পার্থক্য বুঝিয়ে দেয় এইসব কথাবার্তা! ৮৩ – র বিশ্বকাজয়ী মদন লাল বলেছেন।

‘আপনি নিশ্চয়ই প্রাক্তন পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখেছেন, তারা তাদের দলেরই কতটা সমালোচনা করে। আপনি ওদের হতাশা দেখছেন। তারা অন্য দলের খেলোয়াড়দের গালিগালাজ শুরু করেছে। এতে বোঝা যায় যে তারা কতটা শিক্ষিত! কাউকে গালিগালাজ করা ভালো জিনিস নয়। আমার মনে হয় আমরা অপ্রয়োজনীয় ভাবে তাদের প্রচার করছি। তারা এটাই চায়- প্রচার। পাকিস্তানের সমস্ত ইউটিউবার ভারত সম্পর্কে কথা বলে হিট হয়ে যায়। এটি তাদের নীতি। তারা মনে করে, ভারত সম্পর্কে যত বেশি তিক্ত কথা বলা যাবে, তত বেশি লাভবান হওয়া যাবে। মহম্মদ ইউসুফ আবার বললেন।

এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সমর্থনে ইউসুফ লিখেছেন, ‘আমি এমন কোনও খেলোয়াড়কে অসম্মান করতে চাইনি, যে তার দেশের জন্য আবেগ এবং সাবলীলতার সঙ্গে খেলে, কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া এবং লোকেরা কেন ইরফান পাঠানের প্রশংসা করছিল যখন ও বলেছিল, যে শাহিদ আফ্রিদি কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করছিল? মর্যাদা এবং সম্মানের কথা যারা বলছে, তাদের কি তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল না? পাঠান কেন আফ্রিদিকে কুকুর বলেছিলেন, তা নীচের লিংকে ক্লিক করলেই বিশদে পেয়ে যাবেন।