রিঙ্কু সিংকে দিতে হবে ৫ কোটি টাকা! নাহলেই… ভারতীয় দলের ক্রিকেটারকে হাড়হিম হুমকি। যে খবরে ঝড় উঠে গেল নেটপাড়ায়…..
সংবাদ সংস্থা, ০৯ অক্টোবর :- মুম্বই পুলিসের (Mumbai Police) চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে কেঁপে গেল ভারতীয় ক্রিকেট (Indian Cricket News)! কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) গ্যাং- ডি কোম্পানির (D-Company) থেকে মুক্তিপণ দাবি করে পরপর টেক্সট পেয়ে চলেছেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং (Rinku Singh Receives Underworld Threat)। শুধু রিঙ্কুই নন, প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক বাবা সিদ্দিকীর (Baba Siddique) ছেলে জিশান সিদ্দিকিও (Zeeshan Siddique) পেয়েছেন প্রাণঘাতী হুমকি। জিশানের কাছে ১০ কোটি ও রিঙ্কুর কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করেছে দাউদের গোষ্ঠী।
মুম্বই পুলিসের রিপোর্ট :-
মুম্বই পুলিসের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল (এইসি) জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন-মহম্মদ দিলশাদ ও মহম্মদ নাভিদকে গত ১ অগস্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদ থেকে গ্রেফতার করে ভারতে প্রত্যর্পণ করানো হয়েছে। এরপর পুলিশ বিস্তারিত চার্জশিট দাখিল করেছে। যেখানে মামলার চাঞ্চল্যকর বিবরণ রয়েছে। চার্জশিট বলছে, দিলশাদ প্রথমে রিঙ্কুকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৫৭ নাগাদ মেসেজ করেছিল। একেবারে ভক্তের ছদ্মবেশই ছিল তার আবেগি টেক্সট। সে লিখেছিল, ‘আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমি আপনার সবচেয়ে বড় ভক্ত। আপনি কেকেআরের হয়ে খেলছেন দেখে আমি খুবই খুশি। রিঙ্কু স্যার, আমি আশা করি আপনি কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবেন। একদিন আপনি কেরিয়ারের শীর্ষে পৌঁছবেন। স্যর, একটা অনুরোধ আছে, যদি আপনি আমাকে একটু আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারেন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন, ইনশাআল্লাহ।’ এরপর ৫ কোটি টাকা চেয়ে দ্বিতীয় টেক্সট আসে ৯ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৬ মিনিটে। সেখানে লেখা হয়, ‘আমার ৫ কোটি টাকা লাগবে। সময় এবং স্থান বলে দেব।’ এরপর তৃতীয় টেক্সট আসে ২০ এপ্রিল। লেখা হয়েছিল, ‘রিমাইন্ডার! ডি-কোম্পানি।’
পুলিস বনাম আইনজীবী :-
পুলিস জানিয়েছে যে রিঙ্কু কোনও টেক্সটেরই উত্তর দেননি এবং তিনি নিজেই পুলিসকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, জিশান সিদ্দিকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিল দিলশাদ। তা না দিলে ভয়ংকর পরিণতি হবে বলেই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এইসি – র তদন্তে দেখা গিয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি, ডি-কোম্পানির নাম করে একাধিক হাই – প্রোফাইল ব্যক্তির থেকে একই ভাবে মুক্তিপণ চেয়েছে। দিলশাদের আইনজীবীর দাবি, যে তাঁর মক্কেল ঘটনার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিল। আইনজীবীর যুক্তি, পুলিস অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য আইপি অ্যাড্রেস দিতে পারেনি। মুম্বই পুলিস জানিয়েছে যে এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত ডিজিটাল ট্রেইল এবং প্রমাণগুলি দিলশাদের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবেই প্রমাণ করে। সম্প্রতি এশিয়া কাপ জয়ের অংশ ছিলেন রিঙ্কু। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালেই তিনি প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। স্রেফ এক বলে এক শট মেরেই ভারতকে তাদের নবম এশিয়া কাপের জয় এনে দেয় এবং সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে দ্বিতীয়।
