রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১০ মার্চ :- উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে নাথ সমাজের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশকে সামনে রেখে আগামী ১২ মার্চ এক বিশাল নাথ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সোমবার (৯ মার্চ) ধর্মনগরের মিশন রোডস্থিত রাজু দাসের বাসভবনে অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাথ মিশনের সর্বভারতীয় সভাপতি প্রণব কুমার নাথ, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি প্রনয় নাথ, সহ-সভাপতি অজয় নাথ, কালচারাল সম্পাদক রেশ্মি নাথ, আইটি ইনচার্জ নির্মল নাথ, সহ-আইটি ইনচার্জ পঞ্চমী নাথসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাথ সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, নাথ মিশন ত্রিপুরা সেন্ট্রাল কমিটির সহযোগিতায় গঠিত রাজ্য কমিটি একটি জনকল্যাণমূলক, ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংগঠন হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে সমগ্র ত্রিপুরা জুড়ে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।তারা জানান, ত্রিপুরায় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয় ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে। বর্তমানে ধর্মনগর ও কমলপুরের হালহলি বাজার এলাকায় সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো নাথ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যকে সুদৃঢ় করা এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।নাথ সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়। যোগী জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও নগর পঞ্চায়েত এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্তত ৫–৬ বিঘা খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে চারদিকে পাকা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মহাযোগী গুরু গোরক্ষনাথের আবির্ভাব তিথিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিও তোলা হয়। এছাড়াও আসামের আদলে ত্রিপুরা রাজ্যে নাথ যোগী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক উন্নয়ন পরিষদ গঠন ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, কর্পোরেশন ও কাউন্সিলে জনসংখ্যার অনুপাতে নাথ সমাজের প্রতিনিধিদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মনোনয়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে নাথ যোগী সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, নিট এবং কেন্দ্রীয় বা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় বিশেষ ছাড় এবং মাসিক বৃত্তির দাবিও উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নাথ সাহিত্য ও দর্শনকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জনগোষ্ঠীর সঠিক জনসংখ্যা নিরূপণের জন্য পৃথকভাবে গণনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ মার্চ সকালে নাথ মিশন ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রনয় নাথ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন। এরপর মহাযোগী মৎস্যেন্দ্রনাথ ও মহাযোগী গোরক্ষনাথের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হবে। পরে ধর্মনগর শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যার উদ্বোধন করবেন নাথ মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও আসামের প্রাক্তন বিধায়ক প্রভাত কুমার নাথ।দ্বিতীয় পর্বে সকাল ১১টায় যোগসাধিকা রানী ময়নামতী, বিমলা দেবী ও তারা দেবীর স্মৃতিতে নির্মিত মঞ্চের উদ্বোধন করা হবে। এরপর “নাথ ধর্ম, নাথ সাহিত্য ও সংস্কৃতি – অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উড়িয়া কিয়ারবাক মঠের মোহন্ত স্বামী শিব নাথজি মহারাজ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বামী ভক্তি নাথজি মহারাজ, সমাজসেবী ও শিল্পপতি রতন দেবনাথ, সাহিত্যিক মিলন দত্ত, মহাযোগী গোরক্ষনাথ যোগাশ্রম সংঘের সভাপতি খগেন্দ্র নাথ এবং বাংলাদেশের রেলওয়ে বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডি.এস.পি নিহার রঞ্জন নাথসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে যোগাসন প্রদর্শনী, গুণীজন সংবর্ধনা, প্রসাদ বিতরণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকবে। এই বৃহৎ আয়োজন সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নাথ সমাজের কর্মকর্তারা।
১২ মার্চ ধর্মনগরে নাথ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সম্মেলন
