রমেন্দ্র গোস্বামী, ধর্মনগর, ১৯ জানুয়ারি :- রেশমশিল্পকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও লাভজনক করে তোলার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। হস্ততাত, হস্তকারু ও রেশম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষম করে তুলতেই ডিরেক্টরেট অব হ্যান্ডলুম, হ্যান্ডিক্রাফটস অ্যান্ড সেরিকালচার – এর উদ্যোগে “Silk Samagra–2” প্রকল্পের অধীনে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য ছয় দিনের একটি দক্ষতা সৃষ্টিকরণ ও দক্ষতা উন্নয়ন মূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। ধর্মনগরের অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য স্মৃতি ভবনে আয়োজিত এই ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। সোমবার প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে শিবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উত্তর জেলাপরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালাছড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন টিংকু শর্মা, কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন মিহির নাথ, বিশিষ্ট সমাজসেবী কাজল দাস, পাশাপাশি দপ্তরের অধিকর্তা জ্যোতিবিকাশ চাকমা – সহ অন্যান্য আধিকারিক ও অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,রেশমশিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য দক্ষতা হস্তান্তর অত্যন্ত জরুরি। প্রথাগত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক সহায়তা এই শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও স্থায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতিতে রেশমশিল্পের অবদান অনস্বীকার্য বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রেশম কীট পালন, উন্নতমানের কোকুন উৎপাদন, সুতা নিষ্কাশন, মান নিয়ন্ত্রণ, মূল্য সংযোজন এবং বাজার জাতকরণের আধুনিক পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার দিক নির্দেশনাও দেওয়া হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। বক্তারা জানান, বর্তমান সময়ে রেশমশিল্প শুধু কৃষিভিত্তিক কার্যকলাপেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, হুরুয়া ও পানিসাগর সেরিকালচার ক্লাস্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবির ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ছয় দিন ধরে চলবে। এই ছয় দিন প্রশিক্ষণের মধ্যে দুদিন প্রশিক্ষণার্থীদের নিজ বাড়িতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে আগত মহিলারা এতে অংশগ্রহণ করছেন। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার রেশমশিল্প আরও সুদৃঢ় হবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
হস্ততাত, হস্তকারু ও রেশমশিল্প: দক্ষতা উন্নয়নে নতুন দিশা
