গৌতম সরকার, রামকৃষ্ণনগর, ২৫ ডিসেম্বর :- রামকৃষ্ণনগরে সমজেলা কার্যালয়ের ভূমি পূজন, শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পিযুষ হাজারিকা। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক বিজয় মালাকার, সহ দুই মন্ত্রী যথাক্রমে কৌশিক রাই ও কৃষ্ণেন্দু পাল।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উন্নয়নের শিকড়ে পৌঁছেছে রাজ্য শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বললেন মন্ত্রী পীযুষ।

ঘড়ির কাঁটা একটা বেজে দশ মিনিট। রামকৃষ্ণনগর সমষ্টিতে তৃতীয়বারের জন্য পা রাখলেন আসামের জল সম্পদ মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা। মন্ত্রী আসার পর প্রথমে বিধায়ক বিজয় মালাকার উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগতম জানান। এরপর শঙ্খ বাজিয়ে রামকৃষ্ণ নগর মন্ডল মহিলা মোর্চার কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। এরপর ব্লক অফিসের সঙ্গে থাকা রামকৃষ্ণনগর সম জেলা নতুন কার্যালয়ের ভূমি পূজনের মাধ্যমে শিলান্যাস করেন বিধায়ক বিজয় মালাকার কে সঙ্গে নিয়ে জল সম্পদ মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা। উনার সঙ্গে ছিলেন দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ক যথাক্রমে আসাম সরকারের খাদ্য সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রাই, মীন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ও বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী। এরপর ব্লক রোডের খেলার মাঠে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী পীযূষ। ১৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সম জেলা অফিস নির্মাণ হবে। রামকৃষ্ণ নগর বিধানসভা সমষ্টির বিধায়ক বিজয় মালাকার বলেন রামকৃষ্ণ নগর বিধানসভার সমষ্টির সাধারণ মানুষের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের দাবি দীর্ঘদিনের আন্দোলন ছিল যে এখানে সাব ডিভিশন

হবে। দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজত্ব করেছিল। অনেক জনপ্রতিনিধি এখান থেকে হয়েছেন কিন্তু সাব ডিভিশনের দাবি সম্পূর্ণ পূরণ হয়নি। কিন্তু আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে যখন ২০২১ সালে উনি মুখ্যমন্ত্রী হন এই রামকৃষ্ণ নগর সমষ্টিকে কো:জেলা হিসাবে ঘোষিত করেন। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এই বিল্ডিংয়ের জন্য ১৯ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেন। আর আসামের জনপ্ৰিয় মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকার হাত দিয়ে ভূমি পূজন ও শিলান্যাস হয় এই সমজেলা অফিসের। আগেকার দিনে এই সমষ্টি সবথেকে পিছে পড়া সমষ্টি ছিল। নির্বাচন যখন আসতো তখন কংগ্রেসের বিধায়ক সহ মন্ত্রীরা বলতেন যে এই রাতাবাড়ি থেকে আমাদেরকে জিতিয়ে দেন আমরা সোনার রাতাবাড়ি বানাবো। বাস্তব অর্থে এই রাতাবাড়িতে সোনার রাতাবাড়ি কি গর্ত যুক্ত রাতাবাড়ি ছিল। আর সত্যিকার অর্থে এই সোনার রাতাবাড়ি যার হাত দিয়ে হয়েছে তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কৌশিক রাই জানান আজকের দিন সত্যিকার অর্থে রামকৃষ্ণনগর জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। আর এই দিনে বিজয় মালাকারের

নেতৃত্বে বিজয় মালাকারের কর্ম তৎপরতায় আমরা সবাই লক্ষ্য করতে পেরেছি এই রাতাবাড়ি আগের রাতাবাড়ি নেই। আজকের দিনে রাতাবাড়ি রামকৃষ্ণ নগর হয়েছে। আর উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ নগর সমষ্টি এগিয়ে গেছে। যখন ডিলিমিটেশন হয়। ডিলিমিটেশনের ফলে ৭৯ টি সম জেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তারপরে যখন প্রথম ৩৯ টি সম জেলা হয়। এরমধ্যে এই রাতাবাড়ি রামকৃষ্ণনগর সমষ্টি নাম ছিল। আর আজ সম জেলা কমিশনারের অফিস শিলান্যাস করেন মন্ত্রী পীযুষ। কৃষ্ণেন্দু বলেন আজকের এই পূর্ণ দিনে রামকৃষ্ণ নগর সম জেলার শুভ শিলান্যাস হয়েছে। মন্ত্রী পীযুষ হাজারিকা বরাক উপত্যকায় আসলে আমরা আনন্দ পাই ও শক্তি পাই। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দিন রাত এক করে উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিটি সমষ্টি সহ এলাকাতে। ভারতবর্ষের পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে আসামকে যাতে উন্নত রাজ্য হিসেবে গড়া যায় সেই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী এগিয়ে চলেছেন। আগেকার দিনে সরকারি চাকরি পেতে হলে মন্ত্রী বিধায়কের পিছে পিছে যেতে হতো মোটা টাকা নিয়ে। কিন্ত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আসামের বিভিন্ন সমষ্টিতে গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা পয়সায় চাকরি পাচ্ছে। বিধায়ক বিজয় মালাকার একজন কাজ করার মানুষ। এই সমষ্টির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিধায়কের তৎপরতায় সমষ্টিতে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। আসামের যতটি সমষ্টি আছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রামকৃষ্ণ নগর সমষ্টিতে ২০০ কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তার কাজ হয়েছে মূলত বিধায়ক বিজয় মালাকারের নেতৃত্বে। মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা উনার বক্তব্যে বলেন কংগ্রেস সরকারের আমলে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। রামকৃষ্ণ নগর থেকে শ্রীভূমি যেতে হলে তিন ঘন্টা সময় লাগতো। জামুয়াং থেকে শ্রীভূমি বা রামকৃষ্ণ নগর আসতে হলে খরচ বেশি লাগতো সময়ও লাগতো। কিন্তু এখন যে কোন সরকারি কাজের জন্য আপনাদের শ্রীভূমি যেতে হবে না রামকৃষ্ণনগরে হয়ে যাবে। সেটা হয়েছে একমাত্র বিধায়ক বিজয় মালাকারের জন্য। আর সেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। এই সম জেলার বিল্ডিংটা খুব সুন্দর হবে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে প্রতিটি সমষ্টিতে একটি করে সম জেলা হবে ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান হবে। বিজয় মালাকার মেডিকেল কলেজ চেয়েছিলেন মন্ত্রিত্ব নয়। এরকম বিধায়ক আপনারা কোনদিন পাবেন না। দশ বছর আগে ধুতি কম্বল লুঙ্গি ছিল। মহিলা উদ্যমিতা ছিল না, নিযুত মইনা ছিল না, আয়ুষ্মান কার্ড ও ছিল না। আয়ুষ্মান কার্ডে এক বছরের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পায় সুবিধা প্রাপকরা। এই কাজটি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে ছিল ছয়টি মেডিকেল কলেজ কংগ্রেসের সময়। বর্তমানে বিজেপির শাসনকালে ২১ টি মেডিকেল কলেজ। কংগ্রেসের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বারোটি। আর এখন বিশ্ববিদ্যালয় ৩১ টি হয়েছে। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, শ্রীভূমি জেলার পুলিশ সুপার লীনা দোলে, রামকৃষ্ণনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রতিমা নাথ, দুল্লভছড়া মন্ডল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নুপুর চক্রবর্তী, ভৈরব নগর জেলা পরিষদ সদস্য রাজেশ দাস, তিন মণ্ডল বিজেপির সভাপতি হীরেশ বিশ্বাস, প্রীতম পাল, চন্দন ভর ও অন্যান্য বিজেপি দলের কার্যকর্তা সহ বিভিন্ন মোর্চার সদস্যরা।
