সংবাদ সংস্থা, ২৪ ডিসেম্বর :- চিকিত্সকরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর নয়, এমন খাদ্ভ্যাসের জন্য ভিটামিন ‘এ’-র অভাব ঘটতে পারে।
এক-দু’দিন নয়, বেশ কয়েক বছর। শুধুমাত্র চিকেন নাগেটস, সসেজ এবং বিস্কুট কাটিয়ে দিয়েছিল ৮ বছরের কিশোর। চিরতলে দৃষ্টিশক্তি হারাল সে। আর কোনও চোখে দেখতে পাবে না! ছিপছিপে শরীরের নেশায় বুঁদ শিশুরাও। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই চটজলদি রোগা হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছে তারা। অভিভাবকদের সতর্ক করতে ফেসবুকে ঘটনাটি শেয়ার করেছেন মালয়েশিয়ার সুপরিচিত চিকিৎসক ডাঃ এরনা নাদিয়া। তিনি লিখেছেন, একজন মা হিসেবে আমি বুঝি যে, ব্যস্ততার মাঝে সবসময় পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা সহজ নয়। এই শিশুটির বাবা-মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তাদের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া মোটেও সহজ নয়’। ওই চিকিত্সক জানিয়েছেন, ‘উন্নত দেশে ভিটামিন ‘এ’ অভাব বিরল। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর নয়, এমন খাদ্য়াভ্যাসের জন্য ভিটামিন ‘এ’-র অভাব ঘটতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলি যেমন চোখ শুকিয়ে যাওয়া এবং রাতে দেখতে সমস্যা হওয়া। সঠিক সময়ে চিকিত্সা করালে রোগী সেরে ওঠে। কিন্তু চিকিত্সা না করালে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। ওই শিশুটির ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে’। ডাঃ এরনা নাদিয়ার মতে, এই লক্ষণগুলি উপেক্ষা করলে ফল মারাত্মক হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব থেকে ‘জেরোফথালমিয়া’ (চোখের চরম শুষ্কতা) এবং শেষ পর্যন্ত ‘অপটিক অ্যাট্রোফি’ হতে পারে, যা স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ।
শিশুকে কীভাবে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব থেকে রক্ষা করবেন ?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, , ভিটামিন ‘এ’ কেবল সুস্থ দৃষ্টিশক্তির জন্যই নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতার জন্যও অত্যাবশ্যক। অনেক সাধারণ খাবারেই এই পুষ্টি উপাদানটি পাওয়া যায়। যেমন, কমলা ও হলুদ রঙের সবজি, গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া।
শাকসবজি :- পালং শাক, কেল (Kale), ব্রকলি।
ফল :- আম, পেঁপে, তরমুজ (Cantaloupe), কমলা লেবু।
প্রোটিন উৎস :- ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, কলিজা, মুরগির মাংস এবং চর্বিযুক্ত মাছ।
ফর্টিফাইড (পুষ্টিসমৃদ্ধ) শস্যদানা এবং সিরিয়াল।
কিছু ক্ষেত্রে – বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য – ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
