যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, শিলচর, ২২ ডিসেম্বর :- শনিবার নরসিংপুর সরস্বতী বিদ্যা নিকেতনে সংস্কৃত ভারতী, দক্ষিণ কাছাড় জেলার উদ্যোগে গীতা জয়ন্তী উৎসব অত্যন্ত শ্রদ্ধা, শালীনতা ও আধ্যাত্মিক চেতনার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অপরাহ্ন ১:০০ ঘটিকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয় বৈদিক পরম্পরানুসারে প্রদীপ প্রজ্বলন ও মঙ্গলময় দীপমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে, যার ফলে সমগ্র পরিবেশ পবিত্রতা ও সাত্ত্বিক ভাবনায় আলোকিত হয়ে ওঠে।
এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে সংস্কৃত ভারতী, দক্ষিণ অসম প্রান্তের সংগঠন মন্ত্রী শ্রীযুক্ত অনির্বাণ শর্মা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নরসিংপুর সরস্বতী বিদ্যা নিকেতনের প্রধান আচার্য শ্রীযুক্ত পান্নালাল নাথ। মঞ্চে বিদ্যালয়ের সংস্কৃত শিক্ষিকা শ্রীমতী সান্দোলা নাথের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে। সমগ্র অনুষ্ঠানের দক্ষ পরিচালনা সংস্কৃত ভাষায় করেন কালীপ্রসন্ন বিন্দুবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের সংস্কৃত শিক্ষক তথা সংস্কৃত ভারতী, দক্ষিণ অসম প্রান্তের বালকেন্দ্র প্রধান শ্রীযুক্ত নিধূভূষণ দাস, যা সংস্কৃত ভাষার জীবন্ততার এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃত ভারতী, দক্ষিণ কাছাড় জেলার সম্পাদক মানসী নাথ, জ্যেষ্ঠ কার্যকর্তা সুদীপ মহন্ত, অরুন্ধতী সিনহা, সঞ্চিতা শর্মা, কানু মজুমদার, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, দক্ষিণ কাছাড়ের বৌদ্ধিক প্রমুখ শ্রীযুক্ত সজল দে সহ বহু সংস্কৃতানুরাগী, সমাজসেবী ও বিদ্বজ্জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
এই উপলক্ষে শ্রদ্ধা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামূহিক শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং সনাতন ভারতীয় জীবনদর্শনের এক অমৃতগ্রন্থ। এই গ্রন্থ কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের মাধ্যমে মানুষকে কর্তব্যবোধ, আত্মসংযম, নৈতিকতা এবং জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে সমত্ব বজায় রাখার প্রেরণা প্রদান করে।
গীতা জয়ন্তীর গুরুত্ব প্রসঙ্গে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে মার্গশীর্ষ শুক্ল একাদশীর পবিত্র তিথিতে কুরুক্ষেত্রের রণভূমিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার দিব্য উপদেশ প্রদান করেছিলেন। এই উপদেশ কেবল তৎকালীন যুদ্ধসংকটের সমাধানই নয়, যুগ যুগ ধরে মানবজাতির জন্য এক দিশারী আলোকস্তম্ভ হয়ে রয়েছে। মর্যাদা, সংযম, শ্রদ্ধা ও শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে গীতা জয়ন্তী উদ্যাপন আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ও সনাতন পরম্পরারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের শেষে মঙ্গলময় কল্যাণমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সভাপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের বিধিবদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান সংস্কৃত ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশ, গীতার সার্বকালিক বার্তার প্রচার-প্রসার এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সফল, অনুপ্রেরণাদায়ক ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
