যুব বিচিত্রা বিশেষ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর :- শিল্প ও সাহিত্যের শহর ধর্মনগর। ধর্মনগরের সাহিত্য চর্চায় অনেকদিন ধরে নিরলস ভুমিকা পালন করে চলছেন বাচিক শিল্পী ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী। তাঁর সাফল্যের মুকুটে সম্প্রতি জুড়লো আরও একটি পালক। গত চার ডিসেম্বর ও ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় সর্বভারতীয় কলাক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা সুরনন্দন ভারতীর সর্বভারতীয় সম্মেলন ও সমাবর্তন অনুষ্ঠান। গত চার ডিসেম্বর কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দুমতী সভাগৃহে অনুষ্ঠিত সুরনন্দন ভারতীর সর্বভারতীয় সম্মেলন ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জীবনকৃতি পুরস্কারে সম্মানিত হলেন ইন্দ্রাণী। এই সম্মান পেয়ে স্বাভাবিকভাবে আনন্দে আপ্লুত এই শিল্পী। দরাজকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দাদা’ (সুরনন্দনের সর্ব ভারতীয় সভাপতি রিতিশরঞ্জন চক্রবর্তী) যে সম্মান আমায় দিলেন, তার কতটুকু যোগ্য আমি জানি না, তবে এখন থেকে আমার দায়িত্ব আরও বাড়লো।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সুরনন্দন ভারতীর সর্বভারতীয় সম্মেলন ও সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়েছিল কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দুমতী সভাগৃহে।ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্প সাহিত্য জগতের ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভাষাবিদ এবং অভিধান প্রণেতা ডঃ পবিত্র সরকার, প্রাক্তন খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ভাষ্যকার শ্রদ্ধেয় সুকুমার সমাজপতি, বাউল সাধিকা পাপিয়া ঘোষাল, লন্ডন, শ্রদ্ধেয় কল্যাণ সেন বরাট, পণ্ডিত মল্লার ঘোষ, বাচিক শিল্পী মল্লিকা ঘোষ, আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি শ্রদ্ধেয়া চিত্রা রায় প্রমুখ। তাঁদের উপস্থিতির পাশাপাশি রিতীশরঞ্জন চক্রবর্তীর সুদক্ষ পরিচালনায় পরিবেশিত হয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সম্মান জানানো হয় ‘মায়াবিনীর’ সৃষ্টি কর্তা জুবিন গর্গকেও। চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে ইন্দ্রাণী সহ বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সফল শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের প্রায় প্রথমদিকে সম্মান জানানো হয় বাচিক শিল্পী ইন্দ্রাণীকে। তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন ডঃ পবিত্র সরকার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভাষাবিদ এবং অভিধান প্রণেতা, সুকুমার সমাজপতি, ক্রীড়া ভাষ্যকার, পাপিয়া ঘোষাল, বাউল সাধিকা, লন্ডন, অধ্যাপিক , জবা মুখোপাধ্যায়,আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি চিত্রা রায় সহ অন্যান্যরা। এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন ইন্দ্রাণী শৈশব থেকে নাচ, গান ও আবৃত্তি চর্চার সাথে যুক্ত। শিলচর পলিটেকনিক কলেজ থেকে পাশ করা ইন্দ্রাণী বর্তমানে ধর্মনগর আইটিআই-এ ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনে অন্য গ্রহের লোক হলেও ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির সব কয়টি শাখায় তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। পরবর্তীতে তিনি বেছে নেন কবিতা ও আবৃত্তিকে।কবিতার মধ্যে তিনি খুঁজে পান ভালো থাকার অফুরান রসদ।আর এই রসদ সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতেই তিনি চালু করেন শ্রুতিপূরম্।মূলত আবৃত্তি চর্চার জন্য এই স্কুল করা হলেও আবৃত্তির মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইন্দ্রাণীর দক্ষ পরিচালনায় সংস্কৃতি চর্চার এক আদর্শে স্কুলে পরিণত হয় শ্রুতিপূরম্। এই স্কুল কেবলমাত্র ধর্মনগরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কুমারঘাটে রয়েছে স্কুলের শাখা,রয়েছে অনলাইন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। কোভিড পিরিয়ডে চালু হয় অন লাইন-এ আবৃত্তি শিক্ষা।ত্রিপুরার পাশাপাশি অসম, ব্যাঙ্গালোর, গুড়গাঁও, বাংলাদেশে রয়েছে ইন্দ্রাণীর ছাত্র-ছাত্রী।
প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে ইন্দ্রাণী জানান, তাঁর সংস্কৃতি জীবনের নানা কথা। তাঁর ভাষায়, ‘কবিতাই আমার জীবন’, কবিতাই আমার ভালো থাকতে সাহায্য করে। কবিতা নিয়ে আমি কাটাতে চাই। কবিতার মধ্যে থেকে যে সুস্থ মন ও সমাজ গড়ে তোলা যায় সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে চলছি। সেই চেষ্টা আমি করে যাব’। তাঁর কথাতেই জানা যায় কেবলমাত্র আবৃত্তি শিখিয়েই তিনি তাঁর দায়িত্ব শেষ করতে নারাজ।ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে নানা রকম পরিকল্পনা করেন থাকেন। নিয়মিত ব্যবধানে ওয়ার্কশপ, অনুষ্ঠান করে থাকেন। কলাকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে যেমন ওয়ার্কশপ পরিচালনা করে থাকেন, তেমনি সেই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ত্রিপুরা, অসম, বাংলাদেশের শিল্পীরা হাজির হন তাঁদের পরিবেশনা নিয়ে।কচি কচি শিশুদের কণ্ঠে প্রকাশ করা হয়েছে সিডিও।
