মানবিকতা কি হারিয়ে গেছে? একটা মমতাময়ী নারী র মধ্যে কি সেই মাতৃত্ব নেই? উঠেছে বহু প্রশ্ন! কে সেই অমানবিক – মাতৃত্বহীন নারী তিনিজন ?
যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর :- মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকৃতপক্ষে শুভ না অশুভ? তাঁর প্রতিফল আজ ও ফের লোক নজরে ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগরে!
মাতৃত্ব হীন অমানবিক তিন মহিলার সেই আচরণ ফের মহিলা সমাজকে কলুষিত করলো! মৃত্যু মুখে ঠেলে দিলো তরতাজা এক যুবককে, অভিযোগ সর্বত্র :-
কেন সেই মহিলা সামান্য ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে এমন অভব্য আচরণ করলেন? এবং সেই আচরণ একটি মায়ের কোল খালি করে দিলো! এবার প্রশ্ন হলো সেই মহিলা কি প্রকৃত পক্ষে ‘মা’ শব্দের অর্থ জানে না? মানবিকতা বলে কি হৃদয়ে কিছুই ছিল না সেই নারীদের? কে সেই পাষাণ তিন যুবতী নারী?
এক মহিলা গ্রাহকের হেনস্থার শিকারে অকাল মৃত্যুর কোলে প্রসেনজিৎ সরকার, অভিযোগের আঙুল একটি মাতৃত্ব হীন পাষাণ নারীর দিকে, প্রতিবাদের ঝড়ে উত্তপ্ত ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগর :- প্রসেনজিৎ কাণ্ডে ফের মমতাময়ী নারীর উদারতা, মাতৃত্ব, মহিলাদের প্রতি সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতায়ন নিয়ে উঠেছে বেজায় প্রশ্ন!
মঙ্গলবার দিনভর টানা উত্তেজনায় পুলিশ প্রশাসন কে চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে সেই একমাত্র তিন যুবতী সহ দুই যুবক। ডেলিভারি কর্মী প্রসনজিৎ সরকারের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর শহর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকাকুল পরিবেশে বিরাজমান।
অভিযোগ, ডেলিভারি দিতে সামান্য দেরি হওয়ায় এক মহিলার দ্বারা প্রসনজিৎ সরকারের সঙ্গে চরম অবমাননাকর ও অমানবিক আচরণ করা হয়। তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ই ছড়িয়ে পড়তেই নিখোঁজ হয় প্রসেনজিৎ। তবে সম্পূর্ণ ঘটনায় সেই
তিন যুবতী নারীর নাম প্রকাশ্যেই। কে সেই নারীরা যথাক্রমে ধর্মনগর দক্ষিণ হুরুয়ার অভদ্র তিন মহিলা সুস্মিতা ভট্টাচার্য, পিউ ধর, সঙ্গীতা ভট্টাচার্য, এবং দুই যুবক সৌরভ ভট্টাচার্য, মেঘাদ্বীপ ভট্টাচার্য রা ছিল প্রসেনজিৎ এর অকাল মৃত্যুর দায়ী। তাদের নাম সন্নিবিষ্ট করে ধর্মনগর থানায় পরিকল্পিত মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে,এখন চলছে তদন্ত এবং ধরপাকড়ের প্রক্রিয়া।
অবশ্যে দোষীরা পলাতক, তবে চাপের মুখে ধর্মনগর পুলিশ। চলছে জোর অভিযান গ্রেপ্তার শীঘ্রই, আশ্বাস পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই এর। এই অপমান ও সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থার চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রসনজিৎ সরকারের আত্মহত্যা গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের মহিলাদের অতিরিক্ত ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ! নারী সমাজের কলুষিত করা তিন যুবতী সহ দুই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ধর্মনগরের প্রতিবাদী নাগরিকের মতে, এটি শুধুমাত্র আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত মানসিক হত্যাকাণ্ড।আর সেই ঘটনায় কোন ধরণের রেহাই নয় বললেন সচেতন নাগরিক। তৎসঙ্গে আরো ও একটি দাবী উঠেছে, সংবাদ মাধ্যম বা সরকারি কর্তৃপক্ষ ছাড়া যেন কেউ এসব যেকোনো আপত্তি জনক ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে না পারেন,অনুমতি বিহীন ভিডিও ছবি প্রচার করলে তাঁর উপর তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় মামলা নথিভুক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন একাংশ সচেতন নাগরিক।

এবার প্রশ্ন হলো প্রসেনজিৎ কাণ্ডে অভিযুক্ত মহিলারা কি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যা? এবং তাদের কে প্রকৃতপক্ষে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে? তা হলো দেখার বিষয়! অবশ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার বিকল্প আর নেই। পুলিশ এই সেই পাঁচজন যুবক যুবতীর অমানবিক কাণ্ডে বেজায় চাপের মুখে।
