রাতের আনন্দমুখর পার্টি মুহূর্তে দুঃস্বপ্নে! গোয়ার জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ২৫ জনের

সংবাদ সংস্থা, ৭ ডিসেম্বর :- গোয়ার উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ রাতের পার্টি নিমেষে বদলে গেল মৃত্যু-ফাঁদে। রাত প্রায় ১টার দিকে ভয়াবহ আগুন লাগে ক্লাবটিতে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে বেরোবার সুযোগই পাননি অধিকাংশ মানুষ। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ২৫ জনের – যাদের মধ্যে আছেন চারজন পর্যটক, ১৪ জন স্টাফ, এবং সাতজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হলেও বর্তমানে তাঁরা স্থিতিশীল এবং উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন। উদ্ধার কাজ রাতভর চলে, পরে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, রান্নাঘরের কাছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন লেগেছে। তবে তদন্তে জানা যায় – কোনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়নি, সবই অক্ষত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে ভেতরে থাকা কেউ পালানোর সুযোগ পাননি।

ঘটনার পর ক্লাবটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে – নাইটক্লাবটি অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম মানেনি।

  • অগ্নি–নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না।
  • গ্যাস সংযোগ ঠিক ছিল কি না।
  • জরুরি বেরোনোর পথ কার্যকর ছিল কি না।
  • কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না।

আগুন নেভাতে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে এবং ঘটনাস্থলে একাধিক ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন –
“উত্তর গোয়ার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও টুইটে বলেন –
“আরপোরা, গোয়ার আগুনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।”

মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্ত জানিয়েছেন – রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একটি আনন্দমুখর রাত এক নিমেষে পরিণত হলো মৃত্যুর বিভীষিকায়। অগ্নিবিধ্বংসী এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দেয় – জনবহুল বিনোদন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কি যথেষ্ট?
গোয়া প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে, তবে বহু পরিবারে যে অপূরণীয় শোক নেমে এসেছে – তার ক্ষত কেউ মুছে দিতে পারবে না।