সংবাদ সংস্থা, ৭ ডিসেম্বর :- আগামী বছর বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে থাকবে বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দিকে। ২৫ মে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই ফাইনালে পর্দা নামবে এই মহাযজ্ঞের। ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দলের অংশগ্রহণ, আর আয়োজনের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। মোট ১৬ শহরে চলবে ফুটবলের এ মহারণ – ১৯৯৪ সালের পর আবারও উত্তর আমেরিকায় ফিরছে বিশ্বকাপ।
ঠিক এই সময়েই প্রশ্নটা একটাই – ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারকে কি দেখা যাবে?
নেইমারকে নিয়ে অনিশ্চয়তার সুর :-
ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন – বিশ্বকাপে ভিনিসিয়াস – রডরিগোদের পাশে নেইমারকে দেখা না-ও যেতে পারে। দরিভাল জুনিয়রকে বরখাস্ত করার পর ব্রাজিলের কোচিং দায়িত্ব পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ম্যানেজার। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত একবারও ডাকেননি ৩৩ বছর বয়সী নেইমারকে।
ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপ ড্রয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনচেলোত্তির স্পষ্ট উত্তর :-
“নেইমার যদি যোগ্য হয়, তবে অবশ্যই দলে থাকবে। কিন্তু আমি কোনো খেলোয়াড়ের কাছে ঋণী নই। ব্রাজিলের স্বার্থই সবার আগে।”
তিনি আরও বলেন –
“মার্চের ফিফা সূচির পর আমরা চূড়ান্ত তালিকা ঠিক করব। আমাদের প্রয়োজন এমন ফুটবলার, যারা ‘বিশ্বসেরা’ নয় – বিশ্বকাপ জিততে চায়।”
ব্রাজিলের গ্রুপ কঠিন?
ব্রাজিল রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, প্রতিপক্ষে –
- মরক্কো (হাকিমি)।
- স্কটল্যান্ড (রবার্টসন)।
- হাইতি।
প্রতি গ্রুপ থেকে উঠবে দুই দল। আনচেলোত্তির লক্ষ্য পরিষ্কার –
“তিনটি ম্যাচই জেতা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে যাওয়া, আর সে জন্য যে কোনো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
২০০২ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। বড় টুর্নামেন্টে আগের মতো দাপট নেই সেলেকাওদের। ফলে আনচেলোত্তির কাজ সহজ হবে না।
নেইমারের বর্তমান চিত্র :-
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ব্রাজিলের হয়ে আর মাঠে নামেননি নেইমার। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই তাঁর ACL ছিঁড়ে যায়, এবং সেই চোট তিনি এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর রেকর্ড –
- ১২৮ ম্যাচ।
- ৭৯ গোল।
- ৫৯ অ্যাসিস্ট।
এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও কোচের পরিকল্পনায় তিনি যে এখনো অচ্ছুত – তাতে সন্দেহ নেই।
শেষ কথা :-
২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারকে দেখা যাবে কি না – এখনও নিশ্চিত নয়। তবে আনচেলোত্তির স্পষ্ট বার্তা –
দল গড়ার সময় আবেগ নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।
ফলে ব্রাজিল দলের ভবিষ্যৎ যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, নেইমারের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ঠিক ততটাই অনিশ্চিত।
