সংবাদ সংস্থা, ২ ডিসেম্বর :- ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো – এই তিন দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৪৮ দলের লড়াই। ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে দাঁড়াবে ১০৪-এ। ড্র অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে, আর ড্রয়ের পরই শুরু হবে হিসেব – নিকেশ – কারা কোন গ্রুপে, কার প্রতিপক্ষ কে, কোন পথে এগোলে প্রিয় দল পৌঁছতে পারে ফাইনালে।
ড্রয়ের আগেই বিশ্লেষণে নেমে পড়েছে অপ্টার সুপারকম্পিউটার। সব তথ্য-পরিসংখ্যান ঘেঁটে দিয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার এক তালিকা। সেখানেই দেখা যাচ্ছে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডসহ একাধিক দল শিরোপার দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। মেসির আর্জেন্টিনাও আছে আলোচনার কেন্দ্রে।
স্পেন – সবচেয়ে বড় দাবিদার :-
২০২৪ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স স্পেনকে এনে দিয়েছে শীর্ষে থাকার সুযোগ। ৭ ম্যাচের ৬টিতেই জিতেছে তারা, জার্মানির বিরুদ্ধে কোয়ার্টারে লড়াই গেছে অতিরিক্ত সময়ে। ২০২৩ সালের মার্চে স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর আর কোনও প্রতিযোগিতায় হারেনি লা রোহা।
অপ্টার মতে, ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্পেনই ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার।
তরুণ লামিন ইয়ামাল—যিনি ১৭ বছর বয়সে ইউরো ফাইনালে খেলে পেলের রেকর্ড ভেঙেছেন—হতে পারেন দলের অন্যতম ভরসা। সঙ্গে আছেন রদ্রি, পেদ্রি ও গাভি। সব ঠিকঠাক চললে ইউরোর পর বিশ্বকাপও উঠতে পারে স্পেনের হাতে।
ফ্রান্স – দেশমের শেষ অধ্যায়ে আবারও বিশ্বজয়ের লক্ষ্য :-
২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ হতে চলেছে দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের কোচিং অধ্যায়। তার লক্ষ্য স্পষ্ট – ফ্রান্সকে আরও একবার বিশ্বকাপ জেতানো।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই ৯৩ ম্যাচে ৫৫ গোল করেছেন; বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১২। তিনি চোখ রেখেছেন ক্লোসা ও মেসির রেকর্ডে। দলে যোগ হয়েছেন ২০২৫ ব্যালন ডি’ অর জয়ী উসমান দেম্বেলেও, যিনি পিএসজিকে এনে দিয়েছেন প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ। এই দুই তারকার পারফরম্যান্সই হয়তো নির্ধারণ করবে ফ্রান্সের ভাগ্য।
ইংল্যান্ড – টুখেলের হাতে নতুন আশা :-
থোমাস টুখেলের অধীনে খেলতে চলেছে ইংল্যান্ড। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, টুখেল ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার কৌশলী ফুটবল ইংল্যান্ডকে ২০২৬ বিশ্বকাপে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা – চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রবেশ, মেসি কি পারবেন আরও একবার ?
২০২২ বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশ্বকাপে এটি কি মেসির শেষ নৃত্য? পারবেন কি তিনি আরেকবার বিশ্বকে তাক লাগাতে? সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া।
জার্মানি – দীর্ঘ খরা কাটাতে মরিয়া :-
২০১৪ সালে মারাকানায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। এর পর থেকে নকআউট পর্বে জয় নেই তাদের। নতুন পরিকল্পনা ও প্রতিভা দিয়ে ২০২৬-এ তারা ফিরে আসতে চায় পুরনো ছন্দে।
পর্তুগাল – এখনও শীর্ষে রোনালদো :-
২০২২ বিশ্বকাপের পর সৌদি আরবের আল নাসরে যোগ দেওয়ায় অনেকে ভেবেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ম্লান হয়ে যাবেন। বাস্তব ছবিটা উল্টো – তিনি এখনও শিরোনামে, এখনও বিপজ্জনক। বিশ্বকাপ জয়ের শেষ চেষ্টা বলেই ধরছেন অনেকেই।
ব্রাজিল – আনচেলত্তির সেলেসাও এখনও খুঁজছে তাল :-
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখনও কাঙ্ক্ষিত ছন্দে নেই। বলিভিয়া ও জাপানের কাছে হার, ইকুয়েডর ও তিউনিসিয়ার সঙ্গে ড্র – সেলেসাওয়ের পরিচিত আগুনে ফুটবল এখনো অনুপস্থিত। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ মানেই প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।
নেদারল্যান্ডস – এবার কি তারা পারবে ?
তিনবার ফাইনালে উঠে একবারও ট্রফি ছুঁতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপ না জেতা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড তাদেরই। রোনাল্ড কোম্যানের দল ইউরো সেমিফাইনাল খেলে শক্তির প্রমাণ দিয়েছে – এবার কি তাদের অপেক্ষার অবসান?
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই উত্তেজনা তুঙ্গে। সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস এক রকম হলেও মাঠে শেষ কথা বলবে খেলোয়াড়রা। ছাব্বিশের বিশ্বকাপ – শেষমেশ কার হাতে উঠবে স্বপ্নের সোনার ট্রফি?
