সংবাদ সংস্থা, ১৮ নভেম্বর :- চন্দ্রিকা ডাক্তারি পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিবারের “সম্মান রক্ষার” নামে তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায় নিজেরই ঘরে। অভিযোগ, পরিবারের নিয়ম-রেওয়াজের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি ছিলেন হারেশ চৌধুরী নামে এক যুবকের সঙ্গে লিভ – ইনে। হারেশ ছিলেন ভিনজাতের। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চন্দ্রিকার বাবা-মা ও আত্মীয়রা।
পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, চন্দ্রিকার সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষ ছিলেন তাঁর কাকা শিবম চৌধুরী। কিন্তু তিনিই প্রথম ছক কষে আনেন ঘুমের ওষুধ। পাড়ার একটি ওষুধের দোকানের কর্মীর সঙ্গে পরামর্শ করে ৫০টি ঘুমের বড়ি সংগ্রহ করা হয়। সেই বড়িগুলোই মিশিয়ে দেওয়া হয় চন্দ্রিকার দুধের গ্লাসে। চন্দ্রিকা যাতে পুরোটা খেয়ে নেয়, তা নিশ্চিত করতে কাকা তাঁর পাশে বসে থাকেন। দুধ শেষ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন চন্দ্রিকা।
এরপর বাবা, মা, কাকা ও কাকিমা মিলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে দুপাট্টা ব্যবহার করে ঝুলিয়ে রাখেন -যেন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।
গত মে মাসে চন্দ্রিকা হারেশের সঙ্গে রাজস্থানে চলে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ দিয়ে জোর করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়। আতঙ্কে চন্দ্রিকা ১৭ জুন ইনস্টাগ্রামে হারেশকে লেখেন -“আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, নইলে এরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
চন্দ্রিকার মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পরিবার। কিন্তু পরেই হারেশ গুজরাট হাই কোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেন। আদালতে হাজির হয়ে পরিবার জানায় – ২৫ জুন চন্দ্রিকা নাকি আত্মহত্যা করেছেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর সত্য।
১৭০০ পাতার চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে – “পরিবারের সম্মান রক্ষা করতেই” পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল চন্দ্রিকাকে।
