বিপাশা দাশগুপ্ত, কলকাতা, ২৩ অক্টোবর :- ভারতের বিজ্ঞান আজ আবার প্রমাণ করল – আমরা শুধু ইতিহাস সৃষ্টি করি না, ভবিষ্যৎও লিখি। ওকহার্ড লিমিটেড (Wockhardt) ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ (DBT) – এর যুগান্তকারী উদ্যোগে জন্ম নিল ভারতের প্রথম দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত অ্যান্টিবায়োটিক – নাফিথ্রোমাইসিন (Nafithromycin)। এটি শুধু একটি ওষুধ নয়, এটি ভারতের আত্মনির্ভরতার নতুন প্রতীক, বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের বিজয়গাথা, আর মাতৃভূমির গর্বের সোনালি অধ্যায়।
নাফিথ্রোমাইসিন এক অত্যাধুনিক কেটোলাইড শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক, যা প্রচলিত অ্যাজিথ্রোমাইসিনের তুলনায় ৮-১০ গুণ বেশি কার্যকর। মাত্র তিন দিনের কোর্সেই এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে দমন করতে সক্ষম – একটি সাফল্য যা উন্নত বিশ্বের সেরা গবেষণাগারগুলোকেও তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ভারতের মাটিতে তৈরি এই ওষুধ দুর্বল রোগী, যেমন ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং যথার্থই বলেছেন, – “নাফিথ্রোমাইসিন ভারতের আত্মনির্ভর উদ্ভাবনের প্রতীক। আজ আমরা শুধু ওষুধ তৈরি করছি না, ওষুধ আবিষ্কারও করছি।”
এই সাফল্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয় – এটি ১৩৫ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত গর্ব। এটি প্রমাণ করে, ভারত এখন শুধু “Made in India”-র দেশ নয়, বরং “Invented in India”-র দেশ।
বিশ্ব যখন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (AMR) মহামারির মুখোমুখি, তখন ভারতের এই উদ্ভাবন এক আলোর দিশা দেখিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ থেকেও যে মৌলিক বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন সম্ভব – নাফিথ্রোমাইসিন তার জীবন্ত উদাহরণ।
আজ ভারত গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, “আমরা শুধু ভবিষ্যৎ দেখি না, আমরা ভবিষ্যৎ তৈরি করি।”
জয় বিজ্ঞান! জয় আত্মনির্ভর ভারত :-
