‘এয়ার ইন্ডিয়ার সব বোয়িং 787 ড্রিমলাইনার বসিয়ে দাও!’ ভয়ংকর ত্রুটি ফাঁস করে পাইলট ফেডারেশনের বিস্ফোরক চিঠি…!

সংবাদ সংস্থা, ১৫ অক্টোবর :- পাইলটদের সংগঠন তাদের চিঠিতে বলেছে, বোয়িং ড্রিমলাইনারে “বৈদ্যুতিক সমস্যা” রয়েছে। সেইসঙ্গে ক্রমাগত “যান্ত্রিক ত্রুটি” সামনে আসছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এখনও দগদগে। টেকঅফের কয়েক সেকেন্ড পরেই ভেঙে পড়ে লন্ডগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার 787-8। এবার ভারতীয় পাইলটদের সংগঠন দাবি জানাল, এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত বোয়িং ৭৮৭ বিমানের উড়ান বন্ধ করার জন্য। বিমানের মধ্যে ধরা পড়েছে বেশ কিছু গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি। আর তারপরই ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি) সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত বোয়িং 787 বিমানের উড়ান বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছে। পাইলটদের সংগঠন তাদের চিঠিতে বলেছে, বোয়িং ড্রিমলাইনারে “বৈদ্যুতিক সমস্যা” রয়েছে। সেইসঙ্গে ক্রমাগত “যান্ত্রিক ত্রুটি” সামনে আসছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে যা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। চিঠিতে এও বলা হয়েছে যে সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-117 এবং AI-154-ও গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি ও বৈদ্যুতিন ব্যর্থতার কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। যাত্রীরা এতে বিপন্ন বোধ করেন। উল্লেখ্য, ৪ অক্টোবর বার্মিংহামগামী ফ্লাইট AI-117-এ বৈদ্যুতিন ত্রুটির কারণে উড়ানের সময় রাম এয়ার টারবাইন (RAT) খুলে যায়। ৯ অক্টোবর ভিয়েনা থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট AI-154-এর অটোপাইলট এবং ILS (ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম) উড়ানের মাঝখানে ব্যর্থ হয়। ফ্লাইট ডিরেক্টর এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম ফেইল করায় বিমানটি অটোল্যান্ডিং ক্ষমতা ছাড়াই উড়তে থাকে। পাইলটরা “রাতে ম্যানুয়ালি বিমান উড়ানে বাধ্য হয়” ও “সীমিত অটোমেশনের” মাধ্যমে রাতে নিরাপদে দুবাইতে অবতরণ করে।

সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অসামরিক বিমান পরিবহন দফতর (DGCA) এয়ার ইন্ডিয়াকে তার বোয়িং ৭৮৭ বিমানের RAT সিস্টেমগুলি পুনরায় পরীক্ষা করারও নির্দেশ দিয়েছে। এবার পাইলটদের চিঠি তাতে নয়া মাত্রা যোগ করল। বলেছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, আমদাবাদ থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট AI-171 এর মারাত্মক দুর্ঘটনার পরও প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে ডুয়াল ইঞ্জিন ফেলিওর ও জ্বালানির সুইচ কাট-অফের মতো গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়। ফলে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং 787 নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই।

পাইলটদের সংগঠনের দাবি, এয়ার ইন্ডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড (AIESL) থেকে এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার পরই রক্ষণাবেক্ষণের মান কমে গিয়েছে। আগে এয়ার ইন্ডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড (AIESL)-ই বহরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে DGCA বা সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।