সংবাদ সংস্থা, ০৯ অক্টোবর :- আইপিএল খেলেই বছরে মিলবে ৫৮০০০০০০০ টাকা, এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ছেন কামিন্স-হেড! যে খবের ঝড় উঠল বাইশ গজে।

অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই এবং টেস্ট ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স ও স্টার ব্যাটার ট্র্যাভিস হেডের কাছে এল বিরাট লোভনীয় প্রস্তাব! আকাশছোঁয়া অর্থের বিনিময়ে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ছেড়ে পূর্ণকালীন সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার চুক্তি করতে হবে তাঁদের। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের দুই মহারথীর কাছে এহেন প্রস্তাব আসার রিপোর্ট করেছে তাঁদের দেশেরই সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। আর এই প্রস্তাব দিয়েছে খোদ এক আইপিএল টিমের গ্রুপই। এখন প্রশ্ন জাতীয়

দায়বদ্ধতা ছেড়ে কি টাকার কাছে বিকিয়ে যাবেন কামিন্স-হেড? দুই খেলোয়াড়ের ম্যানেজমেন্টই এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ তারকারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক চুক্তিতে ১.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে থাাকেন। যদিও অধিনায়কত্ব ভাতা ধরে কামিন্স ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। কামিন্স এবং হেড দু’জনেই আইপিএলে সর্বোচ্চ আয়কারী খেলোয়াড়দের তালিকায় রয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কামিন্সকে ১৮ কোটি টাকা দয়ে। অন্যদিকে কাব্য মারানের ফ্র্যাঞ্চাইজি হেডকে দেয় ১৪ কোটি টাকা। বেসরকারি বিনিয়োগ হলে

খেলোয়াড়দের বেতন বৃদ্ধি পাবে এবং টি-টোয়েন্টি লিগকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে। ২০২৩ সালে ইংলিশ স্পিডস্টার জোফ্রা আর্চারকে সারা বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলার জন্য ৭.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির প্রস্তাবে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে বিগ ব্যাশ লিগ বেসরকারীকরণের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, রাজ্য সমিতি এবং খেলোয়াড় ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা চলছে। কামিন্স এবং হেডকে দেওয়া চুক্তির প্রস্তাবই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবর্তিত দৃশ্যপট তুলে ধরছে।

বিবিএলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রয়োজনীয়তার উদাহরণ হিসাবে তা দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে হেনরিখ ক্লাসেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আকস্মিক অবসর নিয়ে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার ঘোষণা করেন। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগের বাড়বাড়ন্তের কারণে, জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডগুলির শীর্ষ প্রতিভাদের ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। বিসিসিআই, ইসিবি এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় ক্রিকেট বোর্ডগুলি, তাঁদের শীর্ষ প্রতিভা ধরে রাখতে সক্ষম হলেও, কম সমৃদ্ধ দেশগুলির জন্য সম্ভবত ভীষণ কঠিন সময় আসতে চলেছে। আর্চারের মতোই

কামিন্স – হেডও দেশের হয়ে খেলার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিরাট প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁরা। এক – দু’টাকা নয়, ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব। মানে ভারতীয় মুদ্রায় বছরে ৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হত তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লে। কিন্তু দেশকেই সবার উপরে রাখলেন তাঁরা।
